নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় খেলা নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও এর নেপথ্যে স্থানীয় কাঁচাবাজারের চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারই মূল কারণ বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ জানায়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) ও মিজানুর রহমান (৪০)। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আদাবর থানা পুলিশ ও র্যাব আরো সাতজনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে শোয়েব, আরমান ও নয়ন নামে তিনজনকে নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পর স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিল। এ সময় হাবিব নামে এক ব্যক্তির সাথে কিশোরদের বাগি¦তণ্ডা হয়। এর জের ধরে বুধবার রাতে আদাবরের নবোদয় কাঁচাবাজার এলাকায় একটি সালিস বৈঠক বসে। সালিসের শেষপর্যায়ে কিশোর গ্যাং নেতা মাসুম ও রিপনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার এবং আদাবর ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন গুরুতর আহত হন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসকরা বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবুল বাশারের স্বজন ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে নবোদয় কাঁচাবাজারের ফুটপাথ ও সবজি দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার বিরোধ কাজ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার ছত্রছায়ায় রিপন ও মাসুমের কিশোর গ্যাং চক্রটি ফুটপাথ থেকে দৈনিক ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করত, যাতে বাধা দিয়েছিলেন স্থানীয় নেতারা।
এ দিকে রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৪ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৬৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ ২৬ জন, ওয়ায়ী বিভাগ ৫২ জন, মতিঝিল বিভাগ ৪৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৫৫ জন, মিরপুর বিভাগ ৯৭ জন, গুলশান বিভাগ ৩৯ জন, উত্তরা বিভাগ ৬৩ জন এবং গোয়েন্দা তিনজন গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, পাঁচ হাজার ২১৮ পিস ইয়াবা, ১৫ পুরিয়া গ্রাম হেরোইন, চার বোতল ফেনসিডিল, একটি চাপাতি, একটি চাকু, একটি রশি, দুইটি ইনজেকশন প্যাথেডিন, ২৪টি মোবাইল, দুইজন ভিকটিম, মাদকদ্রব্য সেবনের সরঞ্জামাদি, বিভিন্ন প্রজাতির ১১০৪টি প্রাণী ৭৫ কেজি লেবু, একটি মেমো উদ্ধার করা হয়।
অন্য দিকে যাত্রাবাড়ীতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে নিয়মিত মামলায়, চারজনকে পুরাতন মামলায়, আটজনকে পরোয়ানা মূলে এবং ১০ জনকে ডিএমপি অধ্যাদেশ মোতাবেক গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়াও হাজারীবাগ এলাকা থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।



