চীনের সাথে লড়াই করে হার বাংলাদেশের

ঋতু-মনিকাদের নিয়ে গর্বিত কোচ বাটলার

ক্রীড়া প্রতিবেদক
Printed Edition

জয়ের প্রত্যাশা কখনই ছিল না চীনের বিপক্ষে। তবে এশিয়ার সেরা এবং সাবেক বিশ^কাপ রানার্সআপ দলের বিপক্ষে গতকাল বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছিল তাতে এক পয়েন্ট না পাওয়ার আফসোস থাকছেই। পোস্টের নিচে মিলি, ডিফেন্সে আফঈদা, মিডফিল্ডে মনিকা, মারিয়া, ঋতুপর্ণারা যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তাতে তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। ম্যাচ শেষে এই ফুটবলারদের প্রশংসাই করলেন কোচ পিটার জেমস বাটলার। সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘আমি এই ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত। ওরা দেশের গর্ব। চীনের মতো দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে তারা।’

গোলরক্ষক মিলির প্রশংসা করে বলেন, রুপনার বদলে তাকে খেলানো হয়েছে। মিলি একটি ভুল করেছে। এরপরও সে দারুণ খেলেছে। এখন পরের ম্যাচ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। সেটা কঠিন ম্যাচই হবে। তবে চীনের সাথে বাংলাদেশ দল পয়েন্টের জন্যই খেলেছিল।

চীন ২-০ বাংলাদেশ

কত বড় ব্যবধানে হারতে পারে বাংলাদেশ? চীনের বিপক্ষে সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়ান কাপের এই ম্যাচ শুরুর আগে এই ছিল শঙ্কা। কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই ফুটবলপ্রেমীদেরই আফসোস- কেন প্রথমার্ধের শেষ দিকের তিনটি মিনিট রুখতে পারল না আফঈদা খন্দকার প্রান্তিরা। যদি ৪৪ ও ৪৬ মিনিটে ওই দুই গোল হজম না করত লাল-সবুজরা তাহলে ঐতিহাসিক এই ম্যাচে অনন্য এক নজিরই গড়ত পিটার জেমস বাটলারের দল। রুখেই দিতে পারত শক্তিশালী চীনকে। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে হজম করা দুই গোলেই হয়ে যায় ম্যাচের ফলাফল নির্ধারক। ০-২ গোলে হার দিয়ে নারী এশিয়ান কাপে অভিষেক ঘটল বাংলাদেশের। মারিয়া, মনিকা, ঋতুদের পরের ম্যাচ ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার কাছে। কাল ‘বি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে উত্তর কোরিয়া ৩-০ গোলে হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে। মধ্য এশিয়ান এই দেশটির বিপক্ষে ৯ তারিখে বাংলাদেশের গ্রুপের শেষ ম্যাচ।

নারী এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। তাদের ভাণ্ডারে ৯ বার এশিয়া সেরা হওয়ার খেতাব। সেই দলের বিপক্ষে গতকাল বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক পজিশনে পরিবর্তন। এত দিনের ভরসা রুপনা চাকমার জায়গায় একাদশে সুযোগ পান গোলরক্ষক মিলি আক্তার। দীর্ঘদেহী এই কিপারের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ তৃতীয় গোল হজম করেনি। অবশ্য দ্বিতীয় গোলে তার দায় আছে।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৭তম স্থানে আছে চীন। আর বাংলাদেশ আছে ১১২তে। কিন্তু কাল ময়দানি লড়াইয়ে আফঈদা খন্দকাররা বুঝতে দেননি দুই দেশের মধ্যে এত তফাৎ। বরং চোখে চোখ রেখে প্রায় সমান তালে লড়েছে। গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আর বিরতির পরত লাল-সবুজরা দাপটের সাথে মাঠ মাতিয়েছে।

১৪ মিনিটে মিলির প্রতিরোধে গোলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া বাংলাদেশ দল ১৬ মিনিটে উল্লাসে মেতে উঠতে পারত। তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার ৩৫ গজ থেকে নেয়া দূরপাল্লার শট কোনো মতে রক্ষা করেন চীনের গোলরক্ষক চেন চেন। ২৪ মিনিটে চীন গোল করলেও ভিএআরের কল্যাণে সেই গোল বাতিল। বাংলাদেশ তখন রক্ষণভাগ পোক্ত রেখে কাউন্ডারে খেলতে থাকে। এই কাউন্টার অ্যাটাক থেকেই ৪৪ মিনিটে উল্টো গোল হজম মিলি আক্তারদের। লাল-সবুজ ডিফেন্ডাররা তখন একটু হাই লাইনে। ফলে লব থেকে বল পেয়ে বক্সের কোনো থেকে কোনাকুনি শটে গোল করতে কোনো সমস্যাই হয়নি ওয়াং সুয়াংয়ের। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল ক্লিয়ার হওয়ার পর ক্রস হয়। সেই ক্রস ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি। সেই বলে ঝ্যাং রুইয়ের শট গোললাইনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তির পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়ায়।

দ্বিতীয়ার্ধে আরো উজ্জ্বীবিত ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। শিউলী আজিম ও উমেহেলা মারমার জায়গায় মাঠে নামেন হালিমা ও তহুরা। নবীরনের জায়গায় স্বপ্না রানী। আর ৮৬ মিনিটে ছোট শামসুন্নাহারের জায়গায় জাতীয় দলে অভিষেক সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর। এই অর্ধে বাংলাদেশ দুই বার দূর পাল্লার শটে গোল করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। চীনও খেলোয়াড় বদল করে ব্যবধান বাড়ানোর চেস্টা করে। ৬৮ মিনিটে ঝ্যাং চেসুর শট শারিরীক উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে কর্নার করেন মিলি। ৮০ মিনিটে চীনের কর্নার কিক বাংলাদেশের ক্রসবারে লাগায় গোল হয়নি। ফলে ২ গোলে হারও গর্বের হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য।