ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ অভিষেকে দারুণ লড়াই করলেও ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেরে উঠল না এশিয়ার দেশ জর্দান। ২৮ বছর পর মেগা আসরে ফেরাটা জয়েই রাঙালো অস্ট্রিয়া। স্যান ফ্রান্সিসকোয় গতকাল ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছে ইউরোপের দেশটি। হোমানো শ্মিডের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আলি ওলওয়ানের গোলে সমতা ফেরায় জর্দান। ইয়াজান আল আরবের আত্মঘাতী গোলে আবার এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। যোগ করা সময়ে সফল স্পট কিকে বল জালে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন মার্কো আর্নাতোভিচ।
বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর ফিরে প্রথম ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও স্কোর লাইন বলছে, ততটা সহজ ছিল না অস্ট্রিয়ার জয়টা। প্রায় পুরোটা সময় সমানে-সমান লড়াই করে জর্দান। পুরো ম্যাচে বল পজিশনে ৬২ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও গোলের জন্য ও লক্ষ্যে নেয়া শটে পিছিয়ে ছিল অস্ট্রিয়া। এর মধ্যে ১১ শটের চারটি লক্ষ্যে রাখলেও একবার জালের দেখা পায় জর্দান। অপর দিকে ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে তিনবারই জালের ঠিকানা খুঁজে নেয় অস্ট্রিয়া।
ম্যাচে একটু ঢিমে তালে শুরু হলেও ২১ মিনিটে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। ডি বক্সের বাইরে বল পেয়ে গতিময় বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন শ্মিড। ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না জর্দান গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লাইলার। দুই মিনিট পরেই ম্যাচে ফিরতে পারত সমতা। ওলওয়ানের গতিময় শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবার ছুঁয়ে বেরিয়ে যায় বাইরে।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতা ফেরে জর্দান। ওলওয়ানের শট পোস্টের ভেতর দিকে লেগে জড়ায় জালে। কিছুই করার ছিল না অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষকের। বাছাইপর্বে জর্দানের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা ওলওয়ানের পা থেকেই এলো বিশ্বকাপে দেশটির প্রথম গোল।
৬৭ মিনিটে জালে বল পাঠান অস্ট্রিয়ার ইতিহাসের রেকর্ড গোলদাতা। তবে হ্যান্ডবলের জন্য মেলেনি গোল। ভিএআরের পরামর্শে টিভি মনিটরে দেখে হ্যান্ডবলের বাঁশি বাজান রেফারি। ৭৬ মিনিটে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। কর্নার থেকে আসা বলে লাফিয়েও আর্নাতোভিচ বলের নাগাল না পেলেও পেছনেই থাকা জর্দানের সেন্টার ব্যাক ইয়াজানের মাথা ছুঁয়ে বল চলে যায় জালে।
সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যায় জর্দান। কিন্তু অস্ট্রিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো যোগ করা সময়ের দ্বাদশ মিনিটে হজম করে আরেকটি গোল। ভিএআরের পরামর্শে টিভি রিপ্লেতে জর্দানের আবু জারিকের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি দেন রেফারি। ঠাণ্ডা মাথার স্পট কিকে জাল খুঁজে নেন আর্নাতোভিচ। ১৯৯০ সালের পর প্রথম জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রিয়া।



