ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দেশে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় শিকদের মূল্যায়নের জন্য একটি উন্মুক্ত ওয়েবসাইট চালু করেছে, যেখানে শিার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিকদের রেটিং দেয়া হচ্ছে। উদ্যোগটি শিার্থীদের মধ্যে সাড়া ফেললেও এর বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে শিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
ওয়েবসাইটে কোর্সের কাঠামো, শিাদান পদ্ধতি, শিার্থীদের সাথে যোগাযোগ, পরীা-মূল্যায়ন, পেশাদারিত্ব ও সার্বিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ৫-এর মধ্যে রেটিং দেয়া হয়। ২০১৮-১৯ শিাবর্ষ থেকে পরবর্তী ব্যাচের শিার্থীরা একাডেমিক ই-মেইলে নিবন্ধন করে নিজ বিভাগের শিকদের মূল্যায়ন করতে পারছেন। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বেনামি রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯৬ বিভাগের দ্ইু হাজার ৪৫ জন শিককে নিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার রিভিউ জমা পড়েছে।
সমালোচনা ও সমর্থন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: খোরশেদ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, শিক মূল্যায়ন জরুরি হলেও এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপরে কাজ, ডাকসুর নয়। তার ভাষায়, এ উদ্যোগ ‘অনধিকার চর্চা’, যা ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলার জন্ম দিতে পারে।
তবে রেটিং ৫ পাওয়া পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ওয়াসিমুল বারী উদ্যোগটিকে ইতিবাচক বলছেন, যদিও তার পরামর্শ, ফল প্রকাশ্যে না এনে প্রশাসনিকভাবে সংশ্লিষ্ট শিককে জানানো উচিত। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আল মোস্তফা প্রশ্ন তোলেন, শিার্থীরাই যদি শিকতার মানদণ্ড ঠিক করে দেন, তা ‘অস্বাভাবিক’।
প্রোভিসি (শিা) আবদুস সালাম বলেন, শিক মূল্যায়ন ডাকসুর কাজের মধ্যে পড়ে না এবং এটি কোনো অফিশিয়াল মূল্যায়ন নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব টিচিং ইভ্যালুয়েশন নীতিমালা অনুমোদিত থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি জানান।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া জানান, শিকদের রেটিং চালুর প্রতিশ্রুতি তার নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অংশ ছিল। ২০২৩ সাল থেকে বিষয়টি প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় থাকলেও তা আটকে থাকায় শেষ পর্যন্ত একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়। তিনি বলেন, ডাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও আরো এক বছর তারা এটি দেখভাল করবেন, এরপর দায়িত্ব শিার্থীদের ওপর ছেড়ে দেয়া হবে।



