মফিদুল ইসলাম সরকার পীরগাছা (রংপুর)
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কিশামত ঝিনিয়া (চকচকার ঢোলা) এলাকায় মৎস্য খামারের বাঁধ ভেঙে এবারো ১০০ একর আবাদি জমি পানিতে ডুবে গেছে। এতে কাটা ও পাকা ধান পচে নষ্ট হয়ে কৃষকদের অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পীরগাছা থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, সুখান পুকুর, কিশামত সুখান পুকুর, কিশামত ঝিনিয়া ও ছোট ঝিনিয়া মৌজার বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে আছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা বংশপরম্পরায় এই জমিতে চাষাবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু প্রতি বছরই এলাকার কয়েকজন মৎস্যচাষি আমন মৌসুমে পাকা ধান কাটার সময় কিংবা বোরো মৌসুমে ধান রোপণের পরপরই পুকুরের পাড় কেটে পানি ছেড়ে দেন। এতে তাদের ধান পানিতে ডুবে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, রাতের বেলা পুকুরের পাড় কেটে পানি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এতে ১০০ একর জমির কাটা ও পাকা ধান পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হচ্ছে। কৃষক শাহিন বলেন, প্রতি বছরই একইভাবে ধান নষ্ট করে দিচ্ছে খামারিরা। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ জমি লিজ দেন কিংবা বিক্রি করে দেন। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি।
অভিযুক্ত মৎস্যচাষি মো: হাসেম আলী ঘটনার জন্য ইঁদুরের গর্তকে দায়ী করে বলেন, পাড়টা ইঁদুরে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। তাই ভেঙে গেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বাঁধ ভেঙে দেয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এ দাবি মানতে নারাজ।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে এসআই মো: শহিন বলেন, তদন্ত করে দেখেছি, ক্ষতির অভিযোগ যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য। উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করব। সমঝোতা না হলে কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রতি বছরের ক্ষতি ঠেকাতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে আবাদি জমি হারিয়ে তাদের জীবনব্যবস্থা আরো সঙ্কটের মুখে পড়বে।



