দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতে এবং ভোক্তা ঋণ ব্যবস্থাপনাকে নতুন কাঠামোয় আনতে ব্যক্তিগত ঋণ ও অটো লোনের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি ব্যক্তিগত ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত অটো লোন নিতে পারবেন। তবে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সীমা বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে এসব গাড়ির জন্য ঋণ ও নিজস্ব বিনিয়োগের অনুপাতেও বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০:৪০ অনুপাতে ঋণ দেয়া যাবে। অর্থাৎ গাড়ির মূল্যের ৬০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে এবং বাকি ৪০ শতাংশ গ্রাহককে নিজস্ব তহবিল থেকে বিনিয়োগ করতে হবে। অন্য দিকে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে এই অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০:২০। ফলে পরিবেশবান্ধব গাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য ব্যাংক ঋণ পাওয়া আরো সহজ হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এ উদ্যোগ দেশে সবুজ অর্থায়ন (গ্রিন ফাইন্যান্সিং) সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। একই সাথে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের পরিবর্তে কম দূষণকারী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে।
নতুন নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির মোট ঋণসীমা বা এক্সপোজার নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের নেয়া অটো লোনও বিবেচনায় নেয়া হবে। এর ফলে একই পরিবারের নামে একাধিক বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত ঝুঁকি সৃষ্টির সুযোগ কমবে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।
ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, জামানত ছাড়া একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ নিতে পারবেন। আগে এই সীমা তুলনামূলক কম ছিল। তবে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য জামানত থাকলে ব্যাংকগুলো আরো বেশি ঋণ দিতে পারবে। যদিও কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকার বেশি হবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
তবে ভোক্তা ঋণ দ্রুত বেড়ে গিয়ে যাতে আর্থিক খাতে ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের ‘কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিং’ খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি যেন মোট ঋণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি না হয়। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোকে সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এ নীতিমালা এক দিকে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভোক্তাদের জন্য গাড়ি ও ব্যক্তিগত ঋণপ্রাপ্তি সহজ করবে, অন্য দিকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে। তবে একই সাথে ঋণঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্ক অবস্থানও এতে স্পষ্ট হয়েছে।
এর আগে ২০০৪, ২০১৭ ও ২০২৪ সালে জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো বাতিল করে নতুন এই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।



