খালিদ সাইফুল্লাহ
কাবা ও মসজিদুল হারাম : পবিত্র কাবা আল্লাহ তায়ালার ঘর, যা মক্কার মসজিদুল হারামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। চতুর্ভুজ আকৃতির এই ঘর মুসলমানদের কেবলা। কাবার চার কোণ পরিচিত- ইরাকি রুকন (উত্তর), ইয়ামানি রুকন (দক্ষিণ), হাজরে আসওয়াদ (পূর্ব) এবং শামি রুকন (পশ্চিম) নামে। ইসলামের ইতিহাসে এটিকে প্রথম ইবাদতের ঘর হিসেবে গণ্য করা হয়। হজের সময় তাওয়াফসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা এখানে সম্পন্ন হয়।
মিনা : মিনা হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে হাজীরা নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করেন এবং কোরবানি আদায় করেন। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই স্থানেই হজরত ইবরাহিম (আ:) তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ:)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। মিনায় অবস্থানকালে হাজীরা জামারাতে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল সংক্ষিপ্ত করার আমল সম্পন্ন করেন।
সাফা ও মারওয়া : কাবার নিকটবর্তী সাফা ও মারওয়া দু’টি পাহাড় হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামী ইতিহাসে বর্ণিত আছে, হজরত হাজেরা (আ:) তাঁর শিশুপুত্র ইসমাইল (আ:)-এর জন্য পানির সন্ধানে এই দুই পাহাড়ের মধ্যে দৌড়েছিলেন। সেই স্মৃতির অনুসরণে হাজীরা সাঈ পালন করেন, অর্থাৎ সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাতবার যাতায়াত করেন।
আরাফাতের ময়দান : আরাফাত হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর একটি। ৯ জিলহজ এই ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন; এখানে উপস্থিত না থাকলে হজ সম্পূর্ণ হয় না। আরাফাতের এই স্থান ‘জাবালে রহমত’ নামেও পরিচিত।
মুজদালিফা : মুজদালিফা আরাফাত ও মিনার মাঝখানে অবস্থিত একটি উন্মুক্ত প্রান্তর। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর হাজীরা এখানে অবস্থান করেন। তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেন, জামারাতে পাথর নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করেন এবং এখানে রাত যাপন করেন- যা হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জামারাত (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের স্থান) : মিনায় অবস্থিত জামারাত হলো শয়তানের প্রতীকী স্থানে পাথর নিক্ষেপের জায়গা। এখানে তিনটি স্তম্ভ রয়েছে- জামারায়ে সুগরা, জামারায়ে উসতা এবং জামারায়ে কুবরা। হাজীরা শয়তানের প্রতীক হিসেবে এসব স্তম্ভে নির্ধারিত নিয়মে পাথর নিক্ষেপ করেন।
পবিত্র হজের প্রতিটি স্থানই ইসলামের ত্যাগ, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের একেকটি জীবন্ত নিদর্শন। এসব স্থানে নির্ধারিত নিয়মে ইবাদত সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা তাদের ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটান।



