হাসিনা সরকারের সিলেটের প্রতাপশালী দুই মন্ত্রী দেশেই আত্মগোপনে, কারাগারে ৪

বাকি মন্ত্রী, এমপি, মেয়ররা বিদেশে পলাতক

Printed Edition
হাসিনা সরকারের সিলেটের প্রতাপশালী দুই মন্ত্রী দেশেই আত্মগোপনে, কারাগারে ৪
হাসিনা সরকারের সিলেটের প্রতাপশালী দুই মন্ত্রী দেশেই আত্মগোপনে, কারাগারে ৪

আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণদের অভূতপূর্ব আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ওই দিনই শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সরকারের পতন বুঝতে পেরে সিলেটেও গা ঢাকা দিতে শুরু করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রতাপশালী মন্ত্রী, এমপি, মেয়র ও নেতারা। সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়ে পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে নিরাপদে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যান তারা। পরে সেখান থেকে সুযোগ মতো বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে সাবেক দুই মন্ত্রী এখনো দেশেই আছেন বলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ দিকে কারাগারে বন্দী জীবনযাপন করছেন চারজন সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া জামিনে বাইরে আছেন একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং একজন এমপি।

শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে বারবার শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম নাহিদ দেশেই আত্মগোপনে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এককালের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাহিদ প্রভাবশালী একটা বাম সংগঠনের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন তিনি রাজধানীতেই আছেন।

এ ছাড়া একাধিকবার মন্ত্রী ও হুইপের দায়িত্ব পালনকারী সাবেক বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন দেশেই আত্মগোপনে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। একটি প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে এই সূত্র। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি জয়া সেনগুপ্তাও দেশেই আছেন বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেফতার হওয়া সিলেট-৪ জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ আসনের ছয়বারের এমপি, সাবেক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের আলোচিত সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও সাবেক পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো: মাহবুব আলী বর্তমানে বিভিন্ন হত্যা ও সহিংসতা মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন।

অন্য দিকে সিলেট-১ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ২০২৪-এর আগস্টের পর তিনি দেশেই কিছু দিন আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর সেখান থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপর রয়েছেন তিনি।

সাবেক প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর ভারত হয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে অংশ নিতে দেখা যায়। সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবও যুক্তরাজ্যে পালিয়ে গেছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ভারতে অবস্থান করছেন। সেখানে তার নেতৃত্বে কলকাতা, গৌহাটি এলাকায় আওয়ামী লীগ নানা রকম তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেটের ত্রাস সন্ত্রাসীদের গডফাদার সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট রঞ্জিত চন্দ্র সরকার, একই আসনের সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি মো: আবু জাহির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক এমপি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ সাদিক যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তারা সবাই প্রথমে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত পালিয়ে যান। সেখান থেকে পরে যুক্তরাজ্য গমন করেন।

অন্য দিকে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতের জামিনে নিজ বাড়ি থেকেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুরূপ অবস্থা সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের। তিনি বর্তমানে জামিনে বাইরে আছেন।

আওয়ামী লীগ আমলে সিলেট-৫ আসন থেকে এমপি হওয়া আল ইসলাহ নেতা মাওলানা হুসামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বিএনপির আশ্রয় ও নিজ মুরিদদের প্রটেকশনে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন।