সংসদ প্রতিবেদক
দেশে জীবন বীমা কোম্পানিতে টাকা জমা রেখে মেয়াদ শেষে উত্তোলন করতে গিয়ে গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল।
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। নূরুল ইসলাম বুলবুল অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, দেশে পরিচালিত বেশ কিছু জীবন বীমা কোম্পানিতে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষ ভবিষ্যতের আশায় তাদের শেষ সম্বল বা কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় হিসেবে জমা রেখেছেন; কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, পলিসির নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যখন তারা তাদের জমানো টাকা বা বীমাদাবি উত্তোলন করতে যাচ্ছেন, তখন দিনের পর দিন চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মাসের পর মাস ঘুরলেও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের পাওনা টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এ অবস্থায় সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের কষ্টার্জিত এ অর্থ দ্রুততম সময়ে ফেরত পাওয়া নিশ্চিত করতে এবং প্রতারণা ও অনিয়মে জড়িত এসব বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকারের ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ’ বা ‘আইডিআরএ’ জরুরি ভিত্তিতে কোনো কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না?
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গ্রাহকের বীমাদাবি পরিশোধের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে সর্বোচ্চ অনিষ্পন্ন বীমাদাবি বকেয়া রয়েছে এমন সাতটি জীবন বীমা কোম্পানির মালিক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে সভা করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি তরলীকরণ করা এবং তা পৃথক ব্যাংক হিসেবে রেখে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে গ্রাহকের বীমাদাবি ঋওঋঙ (ঋরৎংঃ ওহ, ঋরৎংঃ ঙঁঃ) পদ্ধতিতে পরিশোধ করা। চলতি সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ উদ্যোগ শুরু হতে যাচ্ছে। বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ বিক্রির অর্থ তরলীকরণ করে ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার পর বীমাদাবিগুলো পরিশোধ করা হবে। এর পাশাপাশি বীমা খাতকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায়, অচিরেই এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে।



