নিজস্ব প্রতিবেদক
শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক মেজর জেনারেল (অব:) জিয়াউল আহসানের মামলার বিচারকাজ নানা কৌশলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিলম্বিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম । গতকাল সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ করেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই মামলার শুনানির ধারাবাহিকতা ব্যাহত করতে আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনালে ক্রমাগত সময়ক্ষেপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার সৃষ্টি করছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এই মামলায় অভিযুক্তের পক্ষে আইনজীবী প্যানেলে রয়েছেন তারই বোন নাজনীন নাহার। তিনি প্রায় প্রতিটি নির্ধারিত তারিখেই কোনো না কোনো অজুহাতে সময় চেয়ে শুনানির কার্যক্রম স্থগিত করতে চান। কখনো আইনজীবীর অসুস্থতা বা মৃত্যুর অজুহাত, আবার কখনো বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক কাগজপত্র চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আর্জি জানানো হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্যই হলো বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করা।’
ট্রাইব্যুনালের আইনি কার্যক্রমের বিবরণ দিয়ে আমিনুল ইসলাম জানান, গত রোববার (২১ জুন) এই মামলায় একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন ট্রাইব্যুনাল এবং আইনানুযায়ী সোমবার ওই সাক্ষীকে জেরার জন্য দিন নির্ধারিত ছিল; কিন্তু যথারীতি জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালে তিন থেকে চারটি আবেদন পেশ করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আবেদনগুলোর মধ্যে কেবল আসামির সাথে সাক্ষাৎ করার আরজিটি একজন আইনজীবীর আইনগত অধিকার হওয়ায় আমরা সেটির বিরোধিতা করিনি এবং ট্রাইব্যুনালও তা মঞ্জুর করেছেন। তবে বাকি আবেদনগুলো ছিল সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং কালক্ষেপণের কৌশল মাত্র, যার কারণে আমরা সেগুলোর তীব্র বিরোধিতা করেছি।’
চিফ প্রসিকিউটর দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, নানান আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে গুমের এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি বিলম্বিত করার অপচেষ্টা কোনো ভালো লক্ষণ নয়। তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, আগামী ধার্য তারিখ থেকে অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানের আইনজীবীরা যদি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা শুনানির সময় নষ্ট করার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা দেন, তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরো কঠোরভাবে আইনি আপত্তি জানানো হবে।সোমবার এ মামলায় পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেয়া সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুলের জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। একই সাথে কোনো ব্রিফিংয়ে জিয়াউল আহসানকে যেন খুনি না বলা হয়, সে জন্য মৌখিক আবেদন করেছে আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে জেরার জন্য ২৮ জুন দিন ঠিক করেন আদালত।



