নির্বাচনের আগে-পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ও সীমান্ত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবর মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিতে হবে চট্টগ্রামে ইসি সানাউল্লাহ

Printed Edition
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ  : নয়া দিগন্ত
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেছেন, কোনো গোষ্ঠী বা দলের অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেসব অভিযান করবে, তা মিডিয়ায় দিয়ে দেবেন। কোনো গোষ্ঠী বা দল যদি অপকর্ম করে পার পেয়ে যেতে চায়, তাহলে তারা যেন উৎসাহিত বোধ না করে। কারণ তারা জানবে, অপকর্ম করলে ধরা পড়তে হবে এবং এটি জাতীয় বিষয় হয়ে যাবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করুক। সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ও সীমান্ত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলেও তিনি জোর দেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এবং এগুলো খুঁজে পেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই ভোট দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেলের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন তিনি। মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খান প্রমুখ।

নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে, সে দিকে লক্ষ রাখার পরামর্শ দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মাঝে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। নির্বাচন ঘিরে অপতথ্য ও গুজব রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন- গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো ও শেয়ার করা অপরাধ।

আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত বন্ধ রাখা জরুরি। রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে বলে আমাদের ধারণা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কিছু কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা বিঘিœত করছে। কেউ যদি একটি অস্ত্র সীমান্তের ওপার থেকে এনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকিয়ে ফেলে, সহজে এটিকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সুতরাং রোহিঙ্গাদের চলাচলে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটের সময় রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতে না পারে এবং তাদের যেন অপরাধে কেউ ব্যবহার করতে না পারে। এ জন্য ভোটের আগে ও পরবর্তী কয়েক দিন উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে সিল করে রাখতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র যেগুলো উদ্ধার হয়নি তা উদ্ধার হওয়া জরুরি উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একধরনের গান (অস্ত্র) রানিং হয়। অস্ত্রের একটি সঞ্চালন দেখা দেয়। সন্ত্রাসীদের কদর বেড়ে যায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো প্রায় ১৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। এগুলো খুঁজে পেতে হবে। শতভাগ খুঁজে পাবেন তা আশা করা যায় না। তবে যারা এগুলো নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে বা উদ্ধার করতে পারলে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে। এ ছাড়া হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। ৭০-৭৫ শতাংশ উদ্ধার করা গেছে। বাকিটা এখনো মাঠে আছে। এসব দ্রুত খুঁজে পেতে হবে।