কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা
তোয়ালে শিল্পটি দেশের বস্ত্রশিল্পের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গাজীপুরের কালীগঞ্জের পৌর এলকার বড়নগর গ্রামে গড়ে উঠেছে তোয়ালে তৈরির এক সম্ভাবনাময় শিল্প। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অনেক পরিবার তোয়ালে উৎপাদনের সাথে জড়িত। বাড়িতে কিংবা ছোট ছোট কারখানায় তাঁত ও মেশিনের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের তোয়ালে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিতেও যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা।
মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার থেকে শুরু করে হাসপাতাল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তোয়ালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন খাতের প্রসারের ফলে তোয়ালের চাহিদাও বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তোয়ালে দেশের বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রফতানির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের তোয়ালের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সঙ্কট ও বাজারজাতকরণে নানা সমস্যায় উদ্যোক্তারা মাঝে মধ্যে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
তোয়ালে তৈরির প্রধান কাঁচামাল তুলা ও সুতা। বিভিন্ন ধরনের সুতা ব্যবহার করে বিশেষায়িত তাঁত ও আধুনিক মেশিনে তৈরি করা হয় নানা আকারের তোয়ালে। সাধারণ তোয়ালের পাশাপাশি হ্যান্ড টাওয়েল, বাথ টাওয়েল, ফেস টাওয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে কালীগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলার পৌরসভার বড়নগর, ভাদগাতী, খঞ্জনা, উত্তরগাঁও, বালীগাঁও, বাহদুরশাদী ও ধুলাসাধুখাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের কারখানায় পণ্যটি উৎপাদিত হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, কোথাও তাঁতের খটখট শব্দ, আবার কোথাও শ্রমিকরা তৈরি করা তোয়ালে কাটিং, সুইং ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক নারী-পুরুষও এ শিল্পে শ্রম দিয়ে আয় করছেন। বড়নগরের তোয়ালে শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষ যুক্ত রয়েছে। কেউ উৎপাদনে, কেউ সুতা সরবরাহে, কেউ পরিবহনে এবং কেউ বাজারজাতকরণের কাজে যুক্ত রয়েছেন। ফলে একটি পণ্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বলয়।
পৌরসভার বড় নগরের তোয়ালে কারখানার মালিক মো: আশরাফ আলী বলেন, কাঁচামালের মূল্য কমানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা গেলে তোয়ালে শিল্প আরো দ্রুত বিকশিত হতে পারে এ অঞ্চলে। বর্তমানে শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কারিগর মো: রাশেদ বলেন, সুতা সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট নকশা ও মাপ অনুযায়ী তাঁত বা মেশিনে তোয়ালে তৈরি করা হয়। পরে সেগুলো ধোয়া, শুকানো, কাটিং ও ফিনিশিংয়ের পর বাজারজাত করা হয়। সাধারণ তোয়ালের পাশাপাশি বিভিন্ন আকার ও নকশাদার পণ্য তৈরি করা হয়।
তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তোয়ালে শিল্প সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। তোয়ালে শিল্প শুধু একটি ব্যবসা নয়; এটি অনেক পরিবারের জীবিকার অবলম্বন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, শিল্পের আধুনিকায়ন এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা দিলে কালীগঞ্জের বড়নগরের তোয়ালে শিল্প দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরো পরিচিতি পেতে পারে। সরকারি সহায়তা পেলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়ে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।



