চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার

বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখন যেন ‘সার্জারির টেবিলে’। বহু বছরের জমে থাকা খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ঋণ, দুর্বল তদারকি- সব মিলিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকি ভিত্তিক তদারকি, ব্যাংক রেজুলিউশন, ডিপোজিট সুরক্ষা, ডিজিটাল পেমেন্ট, বন্ড বাজারসহ যে কঠোর সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন

বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখন যেন ‘সার্জারির টেবিলে’। বহু বছরের জমে থাকা খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ঋণ, দুর্বল তদারকি- সব মিলিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকি ভিত্তিক তদারকি, ব্যাংক রেজুলিউশন, ডিপোজিট সুরক্ষা, ডিজিটাল পেমেন্ট, বন্ড বাজারসহ যে কঠোর সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন মূল্যস্ফীতি, আস্থাহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ধীর প্রবৃদ্ধির ত্রিমুখী চাপে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু সুদের হার বাড়িয়ে থেমে থাকেনি; বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে ‘ভিত্তি থেকে ঠিক’ করার এক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু করেছে। এই সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে- গভর্ন্যান্স, তদারকি, রেজুলিউশন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এর সর্বশেষ নীতিপত্রে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে- ঋণ সম্প্রসারণ নয়, আগে শৃঙ্খলা। প্রবৃদ্ধি নয়, আগে আস্থা। এই দর্শনটিই এখন ব্যাংকিং খাতের প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে নীতিগতভাবে সঠিক হলেও বাস্তবে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত, রাজনৈতিক, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা সামনে আসছে।

রাজনৈতিক অর্থনীতি : টু বিগ টু টাচ্ সমস্যা

বাংলাদেশের ব্যাংকিং সঙ্কটের বড় উৎস ছিল অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ- পরিচালক, বড় শেয়ারহোল্ডার বা তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক ঋণ। এই ‘ইনসাইডার লেন্ডিং’ই বহু ব্যাংকের ব্যালান্সশিট ধ্বংস করেছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৫ সালের ৮ মে জারি করা ‘ব্যাংক-সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন’ সার্কুলারের মাধ্যমে কঠোর সীমা আরোপ করেছে।

নতুন কাঠামোতে- পরিচালক/ম্যানেজমেন্ট/ইউবিও-কে ঋণ দেয়ায় কড়া শর্ত; পুঁজি অনুপাত ও প্রভিশনিং পূরণ না করলে ডিভিডেন্ড নিষিদ্ধ; প্রকৃত মুনাফা না থাকলে স্টাফ বোনাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে- অর্থাৎ, ‘কাগুজে লাভ’ দেখিয়ে পুরস্কার নয়- নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি মূলত একটি আচরণগত সংস্কার- ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলায় আনার কৌশল।

এতে স্বল্পমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের অসন্তোষ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের স্বাস্থ্য ভালো হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো- অনেক বড় খেলাপি ‘সিস্টেমিক’। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা মানে রাজনৈতিক চাপ। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায়ই পড়ে নিয়ন্ত্রক ক্যাপচার-এর ফাঁদে। এতে চ্যালেঞ্জ হলো- নীতিমালা আছে, কিন্তু প্রয়োগে রাজনৈতিক স্বাধীনতা কতটা থাকবে?

২. খেলাপি ঋণ পরিষ্কার : সত্য প্রকাশের ধাক্কা : খেলাপি ঋণ ৩০-৩৫% ছাড়িয়ে গেলে দুটি বিপরীত সমস্যা তৈরি হয়: (ক) স্বচ্ছতা থেকে আস্থা কমে আর (খ) লুকালে আস্থা বাড়ে কিন্তু সে সাথে ঝুঁকিও বাড়ে।

সংস্কারের ফলে যখন প্রকৃত খেলাপি ঋণ প্রকাশ পাচ্ছে, তখন: আমানতকারীর ভয়; শেয়ারবাজারে চাপ এবং ব্যাংকের ইমেজ ক্ষতিতে স্বল্পমেয়াদে আস্থাহীনতা বাড়তে পারে।

কিভাবে ‘স্বচ্ছতা’ বজায় রেখে ‘প্যানিক’ এড়ানো যাবে- এটি এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

৩. দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ : বিশ^ব্যাংক সমর্থিত অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর)-এর পর পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই মডেলের বৈশিষ্ট্য : দুর্বল ব্যাংক আলাদা রেখে টেনে নেয়া নয়; এক ছাতার নিচে এনে পুনর্গঠন এবং তিন থেকে পাঁচ বছরে কৌশলগত বেসরকারি বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার হস্তান্তর করা। এটি কার্যত একটি ‘ব্রিজ ব্যাংক’ বা ‘খারাপ ব্যাংক’ স্টাইলের সমাধান।

পাশাপাশি আরো তিনটি প্রচলিত ব্যাংকের দ্বিতীয় দফা একিউআর চলছে। এসবের আইনি ভিত্তি হিসেবে আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫; ব্যাংক রেজুলিউশন অধ্যাদেশ ২০২৫; ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজুলিউশন তহবিল (বিআরআরএফ) জারি হয়েছে।

এসব পদক্ষেপ দেখাচ্ছে- বাংলাদেশ এখন প্রথমবারের মতো একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাংক ব্যর্থতার কাঠামো তৈরি করছে। আগে ব্যাংক ডুবলেও ‘বাঁচানো’ হতো; এখন ‘রিজলভ’ করা হবে।

এ ক্ষেত্রে বাস্তব ঝুঁকি হলো- শরিয়াহভিত্তিক দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত করে নতুন ব্যাংক তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। কিন্তু খারাপ সম্পদ এক জায়গায় জমা; ব্যবস্থাপনা দক্ষতার ঘাটতি; সরকারি মালিকানার দায় আর ভবিষ্যৎ বেসরকারি বিনিয়োগকারীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এটি সফল না হলে একটি মেগা প্রবলেম ব্যাংক সৃষ্টি হতে পারে। এখানে চ্যালেঞ্জ হলো- রেজুলিউশন কি সত্যিই পুনরুদ্ধার করবে, নাকি সমস্যাকে বড় করবে?

৪. ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বাস্তবায়ন (আরবিএস): ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে নজর রাখা এবং তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আরবিএস ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রচলিত তদারকি ছিল নিয়মভিত্তিক-কাগজপত্র ঠিক আছে কি না দেখা। নতুন আরবিএস পদ্ধতিতে- ঝুঁকি কোথায় তৈরি হচ্ছে; ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কতটা সক্ষম এবং ভবিষ্যতে সমস্যা কোথায় আসতে পারে- এসব মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা থেকে সক্রিয় ব্যবস্থা।

নতুন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে : তত্ত্বাবধান ম্যানুয়াল; একক-পয়েন্ট ডেটা প্ল্যাটফর্ম; তত্ত্বাবধান হস্তক্ষেপ নির্দেশিকা ও ফরেনসিক অডিট ইউনিট। এগুলো আন্তর্জাতিক মানের তদারকির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বাস্তবায়ন (আরবিএস) কাগজে ভালো, কিন্তু প্রয়োগে কঠিন। কারণ- দক্ষ সুপারভাইজার কম; ফরেনসিক অডিট সক্ষমতা সীমিত; ডেটা অটোমেশন দুর্বল আর রয়েছে ব্যাংকের তথ্য গোপন প্রবণতা। এই ব্যবস্থায় কেবল নিয়ম দেখা নয়- ঝুঁকি বিচার করতে

হয়। এর জন্য উচ্চমানের বিশ্লেষক দরকার হয়।

এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হলো- মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি ছাড়া আরবিএস শুধু ‘সার্কুলার’ হয়েই থাকবে।

ক্রেডিট-ক্রাঞ্চ : সংস্কারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : সংস্কারের ফলে ব্যাংকগুলো এখন ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছে। এর ফল হচ্ছে: এসএমই ঋণ কম; শিল্প বিনিয়োগ স্থবির; কর্মসংস্থান কমছে আর প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ ক্লিন আপ করতে গিয়ে অর্থনীতি শ্বাসকষ্টে পড়েছে।

এখন চ্যালেঞ্জ হলো: সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য কিভাবে রাখা যাবে? অতিরিক্ত কড়াকড়ি থেকে মন্দা আর অতিরিক্ত শিথিলতা থেকে আবার সঙ্কট সৃষ্টির ডায়লেমা।

মুদ্রানীতি বনাম সরবরাহ সঙ্কট : বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির বড় অংশ সরবরাহ দিক থেকে উদ্ভূত। চাল/ডিম/তেল আমদানি বিলম্ব; বাজার সিন্ডিকেট; লজিস্টিক সমস্যা অথবা মৌসুমি বন্যা থেকে এটি আসে। এতে যদি পণ্যই না থাকে তা হলে সুদের হার বাড়িয়ে ‘দাম’ কমানো যায় না ।

এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট- তারা ‘অর্থের মূল্য’ নিয়ন্ত্রণ করে, খাদ্য সরবরাহ নয়। এতে চ্যালেঞ্জ হলো: মুদ্রানীতি ও বাণিজ্য/প্রশাসনিক নীতি সমন্বয়হীনতা।

ডিজিটাল ও ক্যাশলেস রূপান্তর- আচরণগত বাধা : বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কারের আরেকটি দিক- ব্যাংকিংকে শহুরে বড় গ্রাহকের বাইরে নেয়া। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: শিশুদের জন্য কমিক বুকভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি; স্কুল ব্যাংকিং; নারী উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক এজেন্ট ব্যাংকিং; ডিজিটাল ন্যানো লোন স্কিম। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ- বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক ইনস্ট্যান্ট ক্রেডিটিং। এর ফলে দোকানদাররা তাৎক্ষণিক টাকা পাবে আর নগদ নির্ভরতা কমবে। কক্সবাজারে পর্যটন এলাকায় সম্পূর্ণ ক্যাশলেস জোনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলা কিউআর, ইন্সস্টেন্ট পেমেন্ট সিস্টেম, ন্যানো লোন- সবই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বাস্তবতা হলো- গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল দক্ষতা কম; নগদ অর্থের প্রতি আস্থা বেশি; সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি; ছোট ব্যবসায়ীর ট্যাক্স-ভীতি- এর ফলে ডিজিটাল গ্রহণযোগ্যতা ধীর হতে পারে।

এতে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- প্রযুক্তি তৈরি করা সহজ, ব্যবহারকারীর আচরণ বদলানো কঠিন।

বন্ড বাজার উন্নয়ন : কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা : বাংলাদেশ এখনো ব্যাংক-নির্ভর অর্থনীতি। বন্ড বাজারে- করপোরেট ইস্যু কম; বিনিয়োগকারী সীমিত; সেকেন্ডারি মার্কেট দুর্বল এবং রেটিং সংস্কৃতি নেই। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাথে সমন্বয় না হলে অগ্রগতি হবে ধীর। এতে চ্যালেঞ্জ হলো- ব্যাংকের বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগবে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশ : বাইরের ধাক্কা : বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে: ডলারের শক্তি; তেলের দাম; বৈশ্বিক মন্দা এবং রেমিট্যান্স ঝুঁকি। বাইরের এক ধাক্কাই সব সংস্কারকে দুর্বল করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হলো- ম্যাক্রো স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সংস্কার চালু রাখা।

আস্থার প্রশ্ন : সংস্কারের মূল ভিত্তি : সবশেষে সবচেয়ে বড় বিষয়- আস্থা। ব্যাংকিং খাত মূলত আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে। যদি মানুষ ভাবে- ‘ব্যাংক নিরাপদ’ তবে টাকা রাখবে তাতে ঋণ বাড়বে আর অর্থনীতির বিকাশ হবে। ‘ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ’ মনে হলে গ্রাহক টাকা তুলে নেবে আর তাতে সঙ্কট বাড়বে।

সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করছে : স্বচ্ছতা; দ্রুত ফল; রাজনৈতিক সমর্থন এবং শক্ত আইন প্রয়োগের ওপর।

চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার

ব্যাংক খাতের বড় ক্ষত ছিল অর্থপাচার ও ঋণ কেলেঙ্কারি। এই প্রেক্ষাপটে চুরিকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের উপর আন্তঃ-এজেন্সি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সমন্বয় করছে।

এর আওতায় নেয়া পদক্ষেপ এর মধ্যে রয়েছে : ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় তদন্ত; যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি); আমরা দেশের সম্পদ ট্রেস ও জব্দ করি; পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ (এমএলএআরএস) ; আন্তর্জাতিক আইন সংস্থার সহায়তা গ্রহণ হচ্ছে।

এটি শুধু অর্থ ফেরত আনা নয়- ভবিষ্যৎ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক বার্তা হিসাবে নেয়া হয়। বাস্তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এ ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। সামনে সম্ভাবনা আরো কম।

সামগ্রিক মূল্যায়ন : পথ কঠিন, কিন্তু বিকল্প নেই

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কারকে এক বাক্যে বলা যায়- বিলম্বিত কিন্তু অনিবার্য সংশোধন। এখন তিনটি ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে : শৃঙ্খলা বনাম প্রবৃদ্ধি; স্বচ্ছতা বনাম আস্থা; কড়াকড়ি বনাম তারল্য- যদি এই তিনটি ঠিক রাখা যায়, তবে ব্যাংকিং খাত ধীরে ধীরে সুস্থ হবে। সংস্কার মাঝপথে থেমে গেলে আগের চেয়ে বড় সঙ্কটও তৈরি হতে পারে।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে- সংস্কারের সবচেয়ে বড় শত্রু অর্থনৈতিক নয়- রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। আর সবচেয়ে বড় সম্পদ- জনআস্থা। এই দুটির ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ভবিষ্যৎ। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে কতটা স্বাধীনভাবে চলতে দেবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আন্তর্বর্তী সময়ের গভর্নর বিদায় নিয়েছেন। নতুন যিনি গভর্নর হয়েছেন তিনি বিজিএমইএ’র স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান। ব্যক্তিগতভাবে কস্ট অ্যাকাউন্টেন্ট।