বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু

Printed Edition

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

দেশে অতিবৃষ্টি ও সরবরাহ সঙ্কটের কারণে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম চালানে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাতেই চালানটি ঢাকার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়। সরকারের অনুমোদনের পর এ আমদানির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত কাগজপত্র যাচাই ও খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রথম চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজ। বন্দর থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।

আমদানিকারক শাহাজান বলেন, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে বাজারে পণ্য বিক্রি করা হবে। তার মতে, আমদানি বাড়লে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি, পণ্য ছাড়করণে জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। সোমবার থেকেই এ আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আমদানিসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির ঘোষিত মূল্য প্রায় ২৪ টাকা। এর সাথে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক যোগ হওয়ায় আমদানি ব্যয় প্রায় ৭৮ টাকা হওয়ার কথা। তবে আমদানিকারকদের দাবি- পরিবহন, বন্দর, কাস্টমস, খালাস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত খরচ আরো বেড়ে যাচ্ছে।