চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত ১৬ দিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশুসহ মোট এক হাজার ৩৬৬ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে আরো ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যাসঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক অনেক রোগীকে ঠাণ্ডা মেঝেতেই শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে শীতের এই সময়ে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ ১৬ ডিসেম্বর একদিনেই ভর্তি হন ৯৭ জন। সব মিলিয়ে ১৬ দিনে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ্এক হাজার ৩৬৬ জনে।
সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে তিল পরিমাণ জায়গা নেই। অনেক রোগী মেঝেতে স্যালাইন নিয়ে শুয়ে আছেন। শিশুদের কান্না আর স্বজনদের উৎকণ্ঠায় পুরো ওয়ার্ড ভারী হয়ে উঠেছে। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দুই বছরের শিশুর মা শাহিনা খাতুন বলেন, ‘হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু এসে দেখি কোনো বেড নেই। ঠাণ্ডা মেঝেতেই শিশুকে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।’
আরেক অভিভাবক মর্জিনা খাতুন জানান, ‘শীতের রাতে মেঝেতে বাচ্চাকে নিয়ে থাকা খুব কষ্টের। তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। রোগী অনেক, তবে চিকিৎসা ঠিকমতো পাচ্ছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, ‘শীত এলেই ডায়রিয়া রোগী বাড়ে। এবার চাপ অনেক বেশি। জনবল সঙ্কট থাকলেও আমরা দিনরাত চেষ্টা করছি সেবা দিতে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, বর্তমানে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যবিধি অবহেলা এর অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সচেতনতা জরুরি। ডায়রিয়া খুব মারাত্মক না হলেও সময়মতো চিকিৎসা না পেলে পানিশূন্যতা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।’
তিনি জানান, রোটা ভাইরাসে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। চিকিৎসার মূল ভরসা হলো ওরাল স্যালাইন। শিশুদের বুকের দুধ বন্ধ করা যাবে না এবং প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর স্যালাইন খাওয়াতে হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতের কারণে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেড়েছে। এতে হাসপাতালে চাপ তৈরি হয়েছে, তবে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিস্থিতি সামাল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হচ্ছে।



