নির্বাচনে আ’লীগ ও মিত্রদের ভোট যাচ্ছে কোথায়?

‘সেফটি ফাস্ট’ অগ্রাধিকার

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে রাজনীতিতে নানা সমীকরণ রয়েছে। এখন হিসেব নিকেশ চলছে আগামী নির্বাচনে পতিত আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্রদের ভোট পড়বে কোন বাক্সে? এ দিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা আদৌ ভোট দিতে যাবেন কি না এটা নিয়ে যেমন সংশয় রয়েছে তেমনিভাবে তারা যদি ভোট দিতে যান তাহলে কোন দলকে ভোট দেবেন- এ রকম নানা আলোচনাও চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

মনিরুল ইসলাম রোহান
Printed Edition

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তাপ ততই বাড়ছে। এবার নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, এলডিপি, এবি পার্টিসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। যদিও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এর আগে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতনের আগ পর্যন্ত টানা ১৬ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল দলটি। গণ-অভ্যুত্থানে দলটির পতনের পর বিতাড়িত হলেও তাদের নেতাকর্মীসহ একটি বড় সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে দেশটিতে। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে রাজনীতিতে নানা সমীকরণ রয়েছে। এখন হিসেব নিকেশ চলছে আগামী নির্বাচনে পতিত আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্রদের ভোট পড়বে কোন বাক্সে? এ দিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা আদৌ ভোট দিতে যাবেন কি না এটা নিয়ে যেমন সংশয় রয়েছে তেমনিভাবে তারা যদি ভোট দিতে যান তাহলে কোন দলকে ভোট দেবেন- এ রকম নানা আলোচনাও চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

সারা দেশে ভোটার সংখ্যা কত এবং ভোটার কারা

নতুন সংযোজন ও হালনাগাদ মোতাবেক নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য বলছে, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার এক হাজার ২৩৪ জন। তথ্য মতে, ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারদের তরুণ ভোটার হিসেবে গণ্য করা হয়। ওই হিসেবে দেশে বর্তমানে পাঁচ কোটিরও বেশি তরুণ ভোটার রয়েছে। আর ১৮ থেকে ২৯ বছর পর্যন্ত যদি তরুণ হিসেব করা হয়, তাহলে এই বয়সের ভোটারের সংখ্যা চার কোটির কাছাকাছি, যা মোট ভোটারের ৩০ শতাংশ।

আ’লীগের ভোট আসলে কত?

পতিত আওয়ামী লীগের ভোটের পরিমাণ আসলে কত সেটা নিশ্চিত করে বলা খুবই কঠিন। টানা ১৬ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দলটির জনপ্রিয়তার সূচকটি ধরা হতো তুঙ্গে। যদিও তখনকার হিসেব নিকেশ ছিল এক রকম। তখন বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ ঝুঁকেছিল আওয়ামী লীগের দিকে। তারপরও বিএনপি-জামায়াত জোটবিহীন নির্বাচনে ভোটের উপস্থিতির হার ছিল হতাশাজনক। যদিও সরকারি হিসেব মতে, ভোটের উপস্থিতি সন্তোষজনক দেখানো হয়। আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী এ দেশের তাদের সমর্থনের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন- ‘আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম দল। তাদের ভোট শেয়ার ৪০-৫০ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের দেশে ৬-৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক।’

বিগত ৪টি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে পরপর তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ‘আমি আর ডামি’ নির্বাচনে ভোটের মাঠ জমজমাট থাকলেও ভোট প্রদানের হারও রীতিমতো বিস্ময়কর ছিল। ক্ষমতায় থাকাকালেও বিরোধীদলকে আস্থায় না নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পতিত দলটি ক্ষমতায় থাকলেও বিরোধী জোটবিহীন নির্বাচনে মানুষকে তেমন নির্বাচনমুখী করতে পারেনি। ওই নির্বাচনে সরকারিভাবে ভোট প্রদানের হার দেখানো হয় ৪১.৮ শতাংশ। একদলীয় ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ২২৩ আসন, জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ১১টি আসন এবং আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছিল ৬১টি আসন। অন্যরা পেয়েছিল পাঁচটি আসন। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে সরকারিভাবে ভোট প্রদানের হার ছিল ৮৭.১৩ শতাংশ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪৮.০৪ শতাংশ ভোট। পতিত দলটির দোসর জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ৭.০৪ শতাংশ ভোট। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি-জামায়াত জোটবিহীন ওই নির্বাচনে সরকারিভাবে ভোট প্রদানের হার দেখানো হয়েছিল ৪০.০৪ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ১৫৪ আসনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বিনাভোটের ওই নির্বাচনে দলীয় ২৩৪ জন জয়ী এমপির মধ্যে ১৫৪জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ওই নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে করার অভিযোগে নির্বাচনের মাঝপথে ভোট বর্জন করে বিএনপি-জামায়াত জোট। তারপরও সরকারিভাবে ভোট প্রদানের হার দেখানো হয়েছিল ৮০.২ শতাংশ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ৭৬.৮৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৫৭ আসনে বিজয় দেখানো হয়। সরকারিভাবে পতিত দলটির দোসর জাতীয় পার্টি অবশ্য মাত্র ৫.০৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভোট প্রদানের হার নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক না থাকলেও এরপর টানা তিনটি নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট শুধু বর্জনই করেনি, তারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে ওই দিনও আন্দোলন করেছিল। ফলে কেন্দ্র ছিল ফাঁকা। ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াত জোটবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শুধু আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি আর নাম সর্বস্ব কিছু রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছিল। বিরোধী জোটবিহীন ওই নির্বাচনেও ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের আকর্ষণ করেনি। যার ফলে ওই দু’টি নির্বাচনে বড় জোর ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩০/৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ভোট প্রদানের হার কিছুটা কমবেশিও হতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

আওয়ামী লীগ ও মিত্রদের ভোট যাচ্ছে কোথায়?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দলটির পতনের পর দেশ থেকে পালিয়ে যান দল ও সরকারের সব পর্যায়ের নেতা, এমপি ও মন্ত্রীপরিষদসহ বিশাল একটি অংশ। যারা এখনো দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসেননি। স্বাধীনতার ইতিহাসে এবারই প্রথম দেশে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও পতিত দলটির ভোট ব্যাংক নিয়ে রাজনীতিতে নানা সমীকরণ রয়েছে। হিসেব নিকেশ চলছে আগামী নির্বাচনে পতিত আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্রদের ভোট পড়বে কোন বাক্সে? এর আগে একটু জেনেই নিই আওয়ামী ঘনিষ্ঠ কোন দল বা কারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন নতুন একটি জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। যেখানে বাম বলয়ের কয়েকটি দল রয়েছে। জাতীয় পার্টির আরেক অংশ জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি দুই শতাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জাতীয় পার্টির কারণে বিগত তিনটি নির্বাচনে বৈধতা পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী ঘনিষ্ঠ আরেকটি দল রয়েছে চরমোনাই। তারা আওয়ামী লীগের ভোট প্রত্যাশী। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের বড় স্টেকহোল্ডার জামায়াত ও বিএনপি নানা কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে চেষ্টা করছে। দলটির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায় এবং জেলা-উপজেলা ও মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের যারা পরিচিত মুখ রয়েছেন যারা জীবনের নিরাপত্তা হুমকি মনে করতে পারে সেসব নেতার কেউই ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। যদি স্থানীয়ভাবে কাউকে নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয় এবং ঝুঁকিমুক্ত মনে করেন তাহলে ওই সব নেতা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। প্রথমত সেফটি ফাস্ট অর্থাৎ নিরাপত্তাই প্রথম। যে দলটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সমর্থক গোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবেন কেবল সেই দলের প্রার্থীই তাদের ভোট পাবেন। দ্বিতীয়ত অঞ্চলভেদে আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ হবে। যেমন গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলীয় ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলটি আওয়ামী অধ্যুষিত হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যান্য অঞ্চলেও যেসব প্রার্থী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে পারবে এবং সুখে দুঃখে পাশে থাকবে, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘেœ পরিচালনা কাজে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেবেন কেবল ওই দলের প্রার্থীকেই ভোট প্রদান করবে বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি এখনো পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানান ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম সহযোগী ন্যাপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: ইসমাইল হোসেন। মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, দলীয় নির্দেশনা এবার কোনো কাজে আসবে না। শীর্ষ নেতৃত্বই জনবিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে নিরাপত্তার বিষয়টি আগে দেখা হবে। তা ছাড়া অঞ্চলভেদেও তৃণমূলের ভোট ভাগ হবে। ওই নেতা আরো বলেন, একটি দল ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে মামলা-বাণিজ্য করেছে, সুযোগ পেলেই নেতাকর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেছে, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য থেকে অর্থ আদায় করেছে। এলাকাভেদে যারা এটা করেছে তারা কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের ভোট পাবে না।

সংখ্যালঘু ভোট কোথায় যাচ্ছে

আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটের হিসেব নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, সংখ্যালঘু মানেই আওয়ামী লীগ। আসলে কি তাই? এখন আওয়ামী লীগ নেই তাহলে তাদের ভোট কোথায় যাবে, কোন বাক্সে পড়বে? জামায়াত খুলনা-১ আসনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত হিন্দু শাখা খুলেছে। বিগত দিনে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হুসাইন সাঈদী পিরোজপুরে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তেমনিভাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নিতাই চন্দ্র রায়ের মতো নেতারা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভারতীয় হাইকমিশন বিকল্প হিসেবে তাদের এজেন্ট হিসেবে একটি দলকে সমর্থন দিচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের একটি অংশ ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে সংযোগ রেখে ওই দলটির পক্ষে ভোটে প্রভাব বিস্তার করার জন্য জোরালো তৎপরতা চলছে বলে জানা গেছে।

আ’লীগের ভোট নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি না

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নজিরবিহীন পতন ঘটে আওয়ামী লীগের। দল ও সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সবাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। গত দেড় বছরে কেউই দেশে ফেরত আসেননি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন ও সঙ্কটময় মুহূর্ত পার করছে আওয়ামী লীগ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম দেশে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান এই কঠিন ও সঙ্কটময় মুহূর্তের ভোটের হিসেব মূলত আরেক রকম। তাই গত চারটি নির্বাচনে ভোটের হার কত ছিল এবং আওয়ামী লীগ কত শতাংশ ভোট পেয়েছিল সেটার হিসেবই বলে দিচ্ছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এককভাবে আওয়ামী লীগের ভোট আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের যখন সুসময় ছিল, আর তাদের যদি এত জনসমর্থনই থাকবে তাহলে তাদের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলো ফাঁকা ছিল কেন? দলের সুসময়েই বিএনপি-জামায়াতবিহীন নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে ভোট পড়েছিল ৫ থেকে ৭ শতাংশ। আর এখন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কঠিন ও সঙ্কটময় দিন পার করছে। যখন দলটির প্রধান থেকে শুরু করে টপ টু বটম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এতে সহজেই অনুমেয়, তাদের নির্দেশ তৃণমূলে কতটুকু বাস্তবায়ন হবে।