পর্যবেক্ষক সংস্থার সাথে সংলাপে সিইসি

রাজনীতিতে জড়িত কাউকে পর্যবেক্ষক করা যাবে না

Printed Edition
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপে বক্তব্য রাখেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন  : নয়া দিগন্ত
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপে বক্তব্য রাখেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

রাজনীতির সাথে যুক্ত এমন কাউকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না। আপনাদের লোকজন রাজনীতিতে জড়ালে সবকিছু ড্যামেজ হয়ে যাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, কোনোভাবেই রাজনৈতিক সম্পৃক্ত থাকা ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপে এই বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় অন্যান্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংলাপের প্রথম পর্বে ৮১টি দেশী পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সিইসি এ এম এম নাসিরউদ্দিন তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একা এটা করতে পারবে না। আপনাদের চোখ দিয়েই আমরা নির্বাচনকে দেখতে চাই। আপনাদের দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে। এবারের নির্বাচনে ২১ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবেন। নতুনদের মধ্যে অনেকেই অভিজ্ঞ নয় তাই দ্রুত সংস্থাগুলোকে ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ শুরু করার কথা জানান সিইসি।

সিইসি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রধানদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের নিযুক্ত কর্মীরা যেন কখনো বায়াস না হয়। পর্যবেক্ষকরা যদি রাজনৈতিকভাবে মোটিভেটেড হয়ে কাজ করে, তাহলে পুরো ইমেজ নষ্ট হয়ে যাবে। অনেক তরুণ সংগঠন বা নতুন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংস্থাকে তাদের কর্মীদের নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, এখানে অনেক পুরনো সংস্থা আছে যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি অতীত নিয়ে কোনো ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। সবসময় সামনের দিকে তাকাতে চাই। অতীতে ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগোতে চাই। আমরা আপনাদের সহযোগী হিসেবে পেতে চাই।

নাসির উদ্দীন বলেন, পর্যবেক্ষকদের মূল দায়িত্ব হবে মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরা। অনিয়ম শনাক্ত করলেও হস্তক্ষেপ না করে তা সঠিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী কাজ করছেন কি না, তা নজরে রাখতে হবে। গ্রাউন্ড রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার হতে পারে। সিইসি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই। জাতিকে একটি ক্রেডিবল, সুন্দর ও ট্রান্সপারেন্ট নির্বাচন উপহার দেয়া। এজন্য আপনার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যবেক্ষকদের ভূমিকার সীমা চিহ্নিত করে সিইসি স্পষ্ট করে বলেন, অবজারভারদের কাজ হলো পর্যবেক্ষণ করা, হস্তক্ষেপ করা নয়। আপনারা কাউকে প্রভাবিত করতে পারবেন না, কাউকে লাইনে দাঁড় করাতে পারবেন না। শুধু রিপোর্ট করবেন, সঠিক সময়ে পরামর্শ দেবেন। তিনি বলেন, আপনাদের রিপোর্ট অবশ্যই নিরপেক্ষ, পেশাদার এবং বাস্তবতার প্রতিফলন হতে হবে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সংস্কারকাজে সহায়তা করবে। পর্যবেক্ষকরা যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীলভাবে রিপোর্টিং করবেন বলেও সতর্ক করেন সিইসি।