ফ্রান্সে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাজেট চুক্তির ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

Printed Edition

আলজাজিরা

ফ্রান্সের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনায় একটি বাজেট চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমিয়েছে। প্যারিসের ম্যাটিনোঁ প্রাসাদে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘এই সদিচ্ছা একটি গতি ও ঐক্য তৈরি করেছে, যা পার্লামেন্ট ভাঙার সম্ভাবনাকে দূরে সরিয়ে দেয়।’ মাত্র এক মাসের কম সময় দায়িত্বে থাকার পর লেকোর্নু গত সোমবার পদত্যাগ করেন।

তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন, যার লক্ষ্য বছরের শেষ নাগাদ কঠোর বাজেট পাস করা। এই পরিকল্পনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ফ্রান্স গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটে নিমজ্জিত। গত বছর ম্যাক্রোঁ আগাম নির্বাচন ডেকে পার্লামেন্টে শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ফলাফল ছিল উল্টো- আরো বিভক্ত পার্লামেন্ট। ফলে বাজেট অনুমোদন আটকে যায় এবং ঋণসঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়।

এই অচলাবস্থা নিরসনে ম্যাক্রোঁ তিনজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন, যারা কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেননি। লেকোর্নু ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বশেষ। এ দিকে বিরোধী দলগুলো এই সঙ্কটকে কাজে লাগাচ্ছে। কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‌্যালি (এনআর) দলের নেত্রী মারিন লে পেন আবারো ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফরাসিদের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। চলুন আবার ব্যালট বাক্সে ফিরি।’

এনআর দলের প্রেসিডেন্ট জর্দান বারডেলা ও লে পেন আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান, দাবি করেন এসব আলোচনা জনগণের নয়, বরং ম্যাক্রোঁর স্বার্থ রক্ষা করে। তারা জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়ার দাবি জানান। গত নির্বাচনে এনআর সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। বামপন্থী ফ্রান্স আনবোড দলের নেতা জ্যঁ-লুক মেলানশোঁ এবং ডানপন্থী রিপাবলিকান দলের নেতা ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ে বেলামিও ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

এই সঙ্কট শুধু বিরোধীদের শক্তিশালী করছে না, ম্যাক্রোঁর নিজ দলের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করছে। প্রেসিডেন্টের মধ্যপন্থী দলের নেতা গ্যাব্রিয়েল আতাল বলেন, ‘আমি আর প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত বুঝতে পারছি না। সংসদ ভেঙে দেয়ার পর থেকে তার সিদ্ধান্তগুলো শুধু ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিসা আওঁজ বলেন, ‘সব দিক থেকেই মানুষ ম্যাক্রোঁকে ছেড়ে যাচ্ছে। তিনি এই সঙ্কটের জন্য দায়ী, যা প্রতিদিন আরো খারাপ হচ্ছে।’