কোয়ার্টারে যেভাবে উঠবে দলগুলো

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ড্র’তে শেষ মিশরের

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াই। এবার শুরু শেষ ষোলোর মহারণ। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। নকআউটের প্রথম ধাপ শেষে শেষ ষোলোতে ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স ও কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট আফ্রিকার দেশ মরক্কো। সবকিছু ঠিক থাকলে শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার কথা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনারও। আজ ভোরে নকআউটের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল লিওনেল মেসিদের।

শেষ ষোলোতে গ্রুপ পর্বের ভুলত্রুটি শুধরে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুলই বিদায়ের কারণ হতে পারে, ফলে কৌশলগত পরিকল্পনার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তাও বড় ভূমিকা রাখবে। সেই লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে পথচলা দলগুলোর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ ২০২২ আসরের চতুর্থ হওয়া মরক্কোর প্রতিপক্ষ চলমান বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডা। দ্বিতীয় ম্যাচে ২০১৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মোকাবেলা করবে ল্যাটিন দেশ প্যারাগুয়ে। শেষ ষোলো থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সফলভাবে পেরোতে পারলেই শিরোপা স্বপ্ন পূরণ হবে কোনো দলের। শেষ ষোলোতে জয় পেলে অপেক্ষা করবে কোয়ার্টার ফাইনাল। কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পারলে শিরোপার স্বপ্ন আরো কাছাকাছি পৌঁছাবে দলগুলো। সেখান থেকে একটি জয় দলকে নিয়ে যাবে মহারণের মঞ্চে। সবশেষে ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন।

শিরোপার লক্ষ্যে শেষ ষোলো থেকে ফাইনাল পর্যন্ত যেভাবে পাড়ি দেবে দলগুলো। শেষ ষোলোর প্রথম দিনের দু’টি ম্যাচ থেকে কোয়ার্টারে যাবে জয়ী দুই দল। সে ক্ষেত্রে কানাডা-মরক্কোর ম্যাচের জয়ী দল শেষ আটে মোকাবেলা করবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে থেকে জয়ী দলকে। ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের জয়ী দল মোকাবেলা করবে মেক্সিকো-ইংল্যান্ড লড়াইয়ে টিকে থাকা দলকে। স্পেন-পর্তুগাল ও বেলজিয়াম-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের জয়ীরা লড়বে শেষ আটের লড়াইয়ে।

ইতোমধ্যে শেষ ষোলোতে খেলা নিশ্চিত হয়েছে ১৩টি দেশের। দেশগুলো হলো কানাডা, মরক্কো, প্যারাগুয়ে, ফ্রান্স, ব্রাজিল, নরওয়ে, মেক্সিকো, ইংল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ড। বাকি থাকা তিনটি দল গত রাতে শেষ হওয়া ম্যাচ থেকে সবকিছু ঠিক থাকলে ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে, অস্ট্রেলিয়া-মিসরের মধ্যে জয়ী দল দু’টি মোকাবেলা করবে শেষ ষোলোতে। এ ছাড়া কলম্বিয়া-ঘানার ম্যাচের জয়ীরা খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ড্র’তে শেষ মিশরের

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নকআউটের ম্যাচ মিশরের। অপরদিকে ২০০২ সালের পর দ্বিতীয় পর্বে পৌঁছে অস্ট্রেলিয়াও। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এবারের আসরের ৩২-এর ম্যাচে আফ্রিকানদের প্রতিপক্ষ এএফসি প্রতিনিধি সকারুজরা। দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে নির্ধারিত সময় ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শুরু হওয়া ম্যাচে ১৩ মিনিটে ফারাওদের জন্য আনন্দ! মোহাম্মদ সালাহ ছোট করে ফ্রি-কিকের বল ইমাম আশুরের কাছে গেলে তার শটটি বাধা পেয়ে ফিরে আসে। কিন্তু ক্লিয়ার না হওয়ায় আবার এরিয়ার মধ্যে ক্রস করলে হেড করে গোল করেন ব্যাক পোস্টে ওত পেতে থাকা আশুর।

অস্ট্রেলিয়া দ্রুত জবাব দেয়ার চেষ্টা করছে। ১৬ মিনিটে একটি লম্বা থ্রো মিশরের বক্সে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। কিন্তু এইডেন ও’নিলের নেয়া শটটি চলে যায় অনেক বাইরে। পরের মিনিটেই ওমর মারমুশ একটি লম্বা পাস হাফ-ভলিতে চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লক্ষ্যে শট নিলেও হ্যারি সাউটার তা রুখে দেন। শেষ পর্যন্ত ১-০তে এগিয়ে বিরতিতে যায় মিশর।

বিরতি থেকে ফিরেই চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের খেলা। ৫৫ মিনিটে আত্মঘাতি গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। বাম দিক থেকে আসা একটি ফ্রি কিক ফ্লিক করে নিজেদের জালেই জড়ান মোহম্মদ হানি। সমতায় ফেরার পর আরো বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে অস্ট্রেলিয়া। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে ফেললেও গোলের খেলা ফুটবল, সেটাই পাচ্ছিল না। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১০ মিনিটে আগে এবার আক্রমণে আধিপত্য করে মিশর। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে নির্ধারিত সময়ে জয় পাওয়া হলো না মিশরের।