সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে ইমরান খানকে

Printed Edition
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে ইমরান খানকে
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে ইমরান খানকে

আলজাজিরা ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত এই রায় প্রদান করেন। একই সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার তদারকিতে তার বোন ডা: উজমা খান ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা: ফয়সাল সুলতানের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নির্দেশানুযায়ী ওই সময় পর্যন্ত তাকে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন থাকতে হবে।

আদালতের নির্দেশে আরো জানানো হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমরান খানের পরিবারের সদস্য ও বিদেশে থাকা সন্তানরা তার সাথে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষের জমা দেয়া স্বাস্থ্য রিপোর্টে বেশ কিছু অসঙ্গতি ও ঘাটতি পরিলক্ষিত হওয়ায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত নেন। শুনানিকালে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের হৃদস্পন্দনের গতি ও অনিয়মিত রক্তচাপের ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে স্থানান্তরের আবেদন দু’বার প্রত্যাখ্যাত হলেও এবারের সুপ্রিম রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে পিটিআই নেতৃত্ব।

এ দিকে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ও পিটিআই নেতারা। এক বিবৃতিতে আলভি জানান, দীর্ঘ নির্জন কারাবাসের দরুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তীব্র মানসিক চাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ও উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় ভুগছেন। অবিলম্বে তার সার্বক্ষণিক হৃদযন্ত্র নজরদারি (হল্টার মনিটরিং), ইকোকার্ডিওগ্রাম ও কার্ডিয়াক এমআরআইসহ বেশ কিছু জরুরি পরীক্ষার তাগিদ দেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, গত সাত মাস ধরে ইমরান খানের সাথে আইনজীবী বা স্বজনদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি। অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া পৃথক এক জবাবে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইমরান খানের চোখের জটিল রোগ ‘সিআরভিও’ (সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন)-এর চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট উন্নতি হয়েছে এবং তার দৃষ্টিশক্তি এখন প্রায় স্বাভাবিক। কারাপ্রশাসন তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বজনদের সাথে সাক্ষাতের সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করে হাসপাতাল স্থানান্তরের আবেদনের বিরোধিতা করেছিল। তবে আদালতের এই নির্দেশের মধ্য দিয়ে ইমরান খানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে সরকারের ওপর চাপ নতুন করে বৃদ্ধি পেল।