ইসিতে বার্ষিক হিসাব জমা

২০২৫ সালে জাতীয় পার্টির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

২০২৫ পঞ্জিকা বর্ষে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়েছে জাতীয় পার্টির। গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি গতকাল নির্বাচন কমিশনে তাদের যে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে জাপার অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে দলের গত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেন।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ায় বছরের শেষ দিকে আমাদের খরচ বেশি হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের দলের আয় হয়েছে এক কোটি ৮২ লাখ চার হাজার ২৭০ টাকা। ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩। এ ক্ষেত্রে আমাদের পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ১৬৩ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। তবে ব্যাংকে গত বছরের (২০২৪) উদ্বৃত্ত অর্থ থাকায় ২০২৫ সালের খরচ শেষে এখনো তাদের হিসাবে জমা আছে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা।

দাখিলকৃত বিবরণীর তথ্যানুযায়ী, প্রারম্ভিক জের (হাতে নগদ ও ব্যাংক জমা) : ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৪ টাকা। সংশ্লিষ্ট বছরের মোট আয় : এক কোটি ৮২ লাখ চার হাজার ২৭০ টাকা। সর্বমোট আয় (প্রারম্ভিক জেরসহ): দুই কোটি ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৪ টাকা।

দলের আয়ের উৎস হলো, কার্যনির্বাহী কমিটি/উপদেষ্টা পরিষদের চাঁদা (কেন্দ্রীয় কমিটি): বিভিন্ন ব্যক্তি/সংস্থার অনুদান (জেলা শাখা ও এককালীন চাঁদা): নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের অনুদান অথবা অন্যান্য সামগ্রী, দলের পত্রিকা/সাময়িকী/বইপুস্তক বিক্রয় বাবদ আয়, বিভিন্ন মেয়াদি আমানত ও সঞ্চয় হতে প্রাপ্ত সুদ/লাভ, দলের বিভিন্ন সংস্থা/সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হতে আয়।

আলোচ্য বছরে দলটির মোট ব্যয়ের পরিমাণ এক কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। প্রধান ব্যয়গুলো হলো: কর্মীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস, আবাসন ও প্রশাসনিক খরচ, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল, ডাক, টেলিফোন, ইন্টারনেট, কুরিয়ার ও পত্রিকা বিল, আপ্যায়ন, পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, স্টিকার, ব্যানার, মাইকিং ও পোট্রেট, প্রচারণা ও পরিবহন, যাতায়াত : (তালিকায় অন্তর্ভুক্ত) জনসভা/পথসভা/ঘরোয়া বৈঠক এবং প্রার্থীদের প্রদত্ত অনুদান।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাপা সমর্থিত প্রার্থী থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার স্থানীয় সরকার দলগতভাবে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তারপরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের বাইরে থাকে না, বিভিন্ন জনকে সমর্থন করে থাকে। গতবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থী দিলেও, এবার আমাদের প্রার্থীরা যার যার মতো অংশ নেবে এবং আমাদের তাতে সমর্থন থাকবে।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে জাপায় ভাঙন সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির অতিরিক্ত মহাসচিব বলেন, যারা দল ভেঙেছিল, তাদের অধিকাংশই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ফিরে এসেছে। আগামী নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার) সারা দেশে বিশেষ করে, কিছু অঞ্চলে আমাদের প্রার্থীরা ভালো রেজাল্ট করবে বলে প্রত্যাশা করি। আর ভাঙনের কোনো প্রভাব তৃণমূলে নেই। দুই অংশ একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।