কুয়েতে ড্রোন হামলার মধ্যেই প্রবাসীদের ধরপাকড়ে আতঙ্ক

২ হাজারের বেশি বাংলাদেশী আটক দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা

Printed Edition

মনির হোসেন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক চলমান সঙ্ঘাতের মধ্যে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বেসামরিক এলাকা ও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন হামলার পর দেশটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতে বৈধ-অবৈধ সব ধরনের বিদেশী নাগরিকদের ওপর শুরু হয়েছে ব্যাপক চিরুনি অভিযান ও ধরপাকড়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার কুয়েত সিটির পাশে মার্কিন ঘাঁটি ও ‘সার্ক’ নামক স্থানে ইরান থেকে আসা ড্রোন আঘাত হানে। এ হামলার পরপরই কুয়েত পুলিশ ও যৌথ বাহিনী প্রবাসীদের আবাসিক এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ধরপাকড় শুরু করে। কুয়েত সিভিল আইডি (আকামা) সাথে না রাখা এবং অনুমোদিত ঠিকানার বাইরে অবস্থানের অপরাধে বৈধ-অবৈধ উভয় শ্রেণীর শ্রমিকদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

আটককৃতদের ছাড় না দিয়ে সরাসরি ‘সফর জেলে’ পাঠানো হচ্ছে এবং সেখান থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এই অভিযানে ইতোমধ্যেই অন্তত দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মিসরের নাগরিকরাও একই প্রক্রিয়ায় আটক হচ্ছেন।

দূতাবাসের বার্তায় প্রবাসীদের সাবধানে চলাচল এবং সর্বদা কুয়েতের মূল পরিচয়পত্র (সিভিল আইডি) সাথে রাখার কড়া পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আকামা সংক্রান্ত নতুন ও কঠোর নিয়মের কারণে অনেক বৈধ প্রবাসীও গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মারাত্মক ঝুঁকি এবং সরকারি কঠোর অভিযানের মুখে দেশটিতে বাংলাদেশীদের জীবনযাপন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

কুয়েতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বাংলাদেশী নয়া দিগন্তকে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম কুয়েতের অবস্থা ভালো থাকবে, কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেও কুয়েত সিটির দু’টি স্থানে ড্রোন হামলা হয়েছে; কখন কোথায় হামলা হয় তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এরই মধ্যে কুয়েত সরকার প্রবাসীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে। পয়েন্টে পয়েন্টে চেকিং বসিয়ে পুলিশ বৈধ-অবৈধ সবাইকে ধরছে। যাদের আকামা নেই কিংবা নির্দিষ্ট ঠিকানার বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের ধরামাত্রই সোজা ‘সফর জেলে’ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ফলে সিভিল আইডি সাথে রাখা সত্ত্বেও সবাই এখন চরম অনিশ্চয়তা ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে বসবাস করছি।”