ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসরে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুরুটা করেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এরপর গ্রুপে বাকি দুই ম্যাচ, নকআউট পর্বে শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর ম্যাচেও জালের দেখা পেয়েছেন ইন্টার মিয়ামির এই অধিনায়ক। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে গতকাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন রেকর্ড আটবার ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। লম্বা সময় পর গোল না পেলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান এখন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। সতীর্থের গোলে অবদান রেখে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে টপকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান এখন তার।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে অবদান রেখে বিশ্বকাপে মোট ১০ অ্যাসিস্ট করলেন মেসি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট তার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছেন ৮ অ্যাসিস্ট। মেসির এই ১০ অ্যাসিস্টে ভিন্ন ভিন্ন ১০ জন ফুটবলার গোল করেছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কখনো বিশ্বকাপে এতো আগে (দশম মিনিট) অ্যাসিস্ট করেননি মেসি। এটি কর্নার থেকে করা মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১৫ গোলে অবদান রেখেছেন মেসি। শেষ ৬০ বছরে এটাই সর্বোচ্চ। এখানে তিনি পেছনে ফেলেছেন নকআউটে ১৪ ম্যাচে গোল করে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
আর এই অ্যাসিস্টের সুবাদে কিলিয়ান এমবাপ্পের পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের একাধিক আসরে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপেও ১০ গোলে অবদান রাখেন তিনি। এমবাপ্পেও ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রেখেছেন।
সুইজারল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচে হয়েছে যেসব রেকর্ড
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯২ সালে ফিফা র্যাংকিং চালুর পর এবারই প্রথম সেরা চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলছে। এ ছাড়া এ নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল অতীতে শিরোপা জেতা চার দল। ১৯৭০ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপেরও সেমিফাইনালেও ছিল একই চিত্র।
চলতি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে তিন বা এর বেশি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে যা সর্বোচ্চ। এর আগে ফ্রান্স চলতি আসরে টানা চার ম্যাচে তিন বা ততোধিক গোল করেছিল। তাদের ওই যাত্রা থামে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে।
বিশ্বকাপে কর্নার থেকে তিন গোল করেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সমান গোল করেছে কর্নার থেকে। অথচ গড় উচ্চতার দিক থেকে এবারের আসরে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উচ্চতা তৃতীয় সর্বনিম্ন।
চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি কোয়ার্টার ফাইনালে শুরুর একাদশে খেললেন লিওনেল মেসি। এর আগে খেলেছেন- জার্মানির লোথার ম্যাথিউস, মিরোসøাভ ক্লোসা ও উয়ে সিলার।
বিশ্বকাপে জুলিয়ান আলভারেজের পাঁচ গোলের চারটিই এসেছে নকআউট পর্বে। দিয়েগো ম্যারাডোনাও নকআউট পর্বে চার গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে তাদের ওপরে আছেন লিওনেল মেসি (৭)।
ডাইভ দেয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপে এই কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন মেক্সিকোর লুইস পেরেস (বিপক্ষ পর্তুগাল, ২০০৬), ঘানার আসামোয়া জিয়ান (বিপক্ষ ব্রাজিল, ২০০৬) এবং ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টি (বিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, ২০০২)।
বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ পর গোল করতে পারলেন না মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচের পর এবারের আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন।



