ভারত কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছে : পরওয়ার

হাসিনাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জামায়াতের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণরোষের মুখে ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি) শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানজনক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। একই সাথে বাংলাদেশ সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল; কিন্তু দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা এবং সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে তাকে আশ্রয় দেয়া অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। আমরা ভারত সরকারের এমন কূটনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত সাড়ে ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, খুন ও গুম চালিয়েছে। সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশপ্রেমিক জনগণের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এ গণহত্যায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, জাতিসঙ্ঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরপরও তাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একাধিকবার ভারত সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে; কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষা করে পলাতক শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার মূলত বাংলাদেশের পরিবর্তে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সাথে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তিও উপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, ভারত সরকার তার অবস্থান সংশোধন করবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে।

তিনি আরো বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত হলেও বর্তমান সরকার খুনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পালিয়ে থেকে দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে খুনি শেখ হাসিনা। পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে বর্তমান সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে জাতিসঙ্ঘের সহযোগিতা নিতে হবে। সরকার যদি কূটনৈতিক শৈথিল্য প্রদর্শন করে, তাহলে জনগণের কাঠগড়ায় সরকারকে কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে হাজারো প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম, পুরনো ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান, বিকাশ কিংবা আড়ালে-আবডালে কোনো তৎপরতা চালানোর সুযোগ বিপ্লবীরা দেবে না।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, খুনি শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যে ছায়া ফেলতে চায়, তা সফল হবে না। আমরা বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণকে সদা সজাগ থেকে ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে পুরনো ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলে নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ঐক্যবদ্ধ, ইনসাফপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত এবং সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য শোক : বগুড়া ও সিলেটের ওসমানীনগরে দু’টি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং আরো ৩৪ জন গুরুতর আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত সড়কে এ ধরনের মর্মান্তিক প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অনিয়ন্ত্রিত গতি, সড়কের বেহাল দশা এবং কার্যকর তদারকির অভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছর এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন হাজার হাজার বনি আদম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, এই হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর শোক ও বেদনা প্রকাশ করছি। নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে খাস দোয়া করছি। তিনি অবিলম্বে দু’টি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানান।