ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ হলেও ইংল্যান্ড ও ঘানার জন্য এটি অনেকটা অঘোষিত ফাইনাল। বোস্টনের ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবোরো স্টেডিয়ামে জয়ী দল প্রায় নিশ্চিত করে ফেলবে নকআউট পর্বের টিকিট। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪-২ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে, অন্যদিকে ঘানা শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে হারায় পানামাকে। দুই দলেরই পয়েন্ট ৩, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে ইংলিশরা। একদিকে ইংল্যান্ডের তারকাবহুল আক্রমণভাগ, অন্যদিকে ঘানার লড়াকু মানসিকতা ও সংগঠিত রক্ষণ মুখোমুখি হচ্ছে আজ দিবাগত রাত ২টায়।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। অধিনায়ক হেরি কেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও দু’টি গোল করেছেন। তার পেছনে রয়েছেন বেলিংহাম, যিনি মিডফিল্ড থেকে আক্রমণে ওঠার পাশাপাশি গোল করার ক্ষমতাও রাখেন। উইংয়ে এন্থনি গর্ডন, মার্কাস রাশফোর্ড কিংবা নোনি মাদুয়েকে যে কেউ মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। ইংল্যান্ডের আক্রমণের বৈচিত্র্য ও বেঞ্চ শক্তি এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে দুর্বলতাও রয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে চার গোল করলেও ইংল্যান্ডের ডিফেন্স ছিল নড়বড়ে। দুই গোল হজম করেছে তারা, আর রক্ষণে ফাঁকা জায়গা রেখে দিয়েছে বেশ কয়েকবার। বিশেষ করে সেন্টার-ব্যাক জুটি এবং মিডফিল্ডের মাঝে তৈরি হওয়া ফাঁক নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ডেকলান রাইস ও তার সঙ্গীদের আরো সংগঠিত হতে হবে, কারণ ঘানা ঠিক এই জায়গাতেই আঘাত হানতে চাইবে।
বিপরীতে ঘানার শক্তি পুরোপুরি ভিন্ন। তারা বল দখলে নয়, বিশ্বাস করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে। কোচ কার্লোস কুইরোজ দলের রক্ষণকে সাজিয়েছেন অনেকটা দেয়ালের মতো। প্রথম ম্যাচে পানামাকে কোনো গোলের সুযোগ না দিয়েই জয় তুলে নিয়েছে ব্ল্যাক স্টাররা। আক্রমণে ঘানার সবচেয়ে বড় অস্ত্র এন্টনি সিমিনিও। তার গতি, ড্রিবলিং এবং কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে আসার ক্ষমতা ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলতে পারে। এ ছাড়া কামালদিন সুলেমান, জর্ডান আয়েউ যেকোনো মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
মিডফিল্ডে বড় স্বস্তির খবর, দলে ফিরতে পারেন থমাস পাটরে। তার উপস্থিতি ঘানার মাঝমাঠকে আরো শক্তিশালী করবে। তবে ঘানার সমস্যা হলো আক্রমণে ধারাবাহিকতা। পানামার বিপক্ষে দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি তারা, শেষ মুহূর্তে আসে জয়সূচক গোল। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে মূল্য দিতে হতে পারে।
পরিসংখ্যানও ইংল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তারা আট ম্যাচের সবগুলো জিতেছে এবং কোনো গোলই হজম করেনি। বিশ্ব র্যাংকিংয়েও ইংল্যান্ড অনেক এগিয়ে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে আফ্রিকান দলগুলোর লড়াকু মানসিকতা নতুন কিছু নয়, আর ঘানাও জানে কিভাবে বড় দলকে চাপে ফেলতে হয়।
সব মিলিয়ে এটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন দর্শনের লড়াই। একদিকে ইংল্যান্ডের তারকাখচিত আক্রমণভাগ, অন্য দিকে ঘানার শৃঙ্খলিত রক্ষণ ও বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাক। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও, ঘানাকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। বোস্টনের রাত তাই হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চ, গতি আর কৌশলের এক দুর্দান্ত ফুটবল যুদ্ধ।
ঘানার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে ইংল্যান্ডের অনুশীলনে ফিরেছেন বুকায়ো সাকা। পেশির ইনজুরির কারণে গত শনিবার থেকে সাকা ব্যক্তিগত অনুশীলনে ছিলেন। গত কয়েক মাস যাবৎ আর্সেনালের হয়ে ঘরোয়া মৌসুমে এই ইনজুরি তাকে বেশ ভুগিয়েছে। ইংল্যান্ড দলের হেড কোচ থমাস টাচেল জানিয়েছেন পানামার বিপক্ষে গ্রুপ-এলের শেষ ম্যাচের আগে তিনি রাইট উইঙ্গার সাকার ফিটনেস নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। যদিও গত রোববার অনুশীলনে সাকা নিজের ফিটনেস প্রমাণ করেছেন। ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ের প্রথম ম্যাচে সাকা শেষ ১৮ মিনিট মাঠে ছিলেন। তার স্থানে আর্সেনাল সতীর্থ নোনি মাদুয়েকেকে মূল একাদশে খেলানো হয়।
টাচেলের কথায়, ‘সাকা অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। যে কারণে আশাবাদী হওয়াই যায়। আমি মনে করি গত কয়েক বছর সাকা ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক আসর মিলিয়ে প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। আর্সেনালের হয়ে সে লিগ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সে একজন অত্যন্ত উঁচু মানের খেলোয়াড় এবং তার প্রভাব মাঠে পুরো দলের ওপর পড়ে। সেটা আর্সেনাল কিংবা ইংল্যান্ড, যে দলই হোক না কেন।’



