হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ শ্রেণিপেশার ভোটার এখনো গণভোট সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাননি। সাধারণ ভোটারই শুধু নন, অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মধ্যেও এ বিষয়ে রয়েছে ব্যাপক অজ্ঞতা। আর মাত্র ২৭ দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। তবে প্রশাসনের দাবি, গণভোট নিয়ে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যদিও কত শতাংশ ভোটার এখনো গণভোট সম্পর্কে অবগত নন সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাওরাঞ্চলের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গণভোট বিষয়ে তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রচার-প্রচারণা এখনো চোখে পড়েনি। নিকলী উপজেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, গণভোট বিষয়ে ভোটারপ্রতি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ টাকা। তবে জাতীয় পর্যায়ে ভোটারপ্রতি বরাদ্দ কত সে তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ নিয়ে রয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা।
পূর্বের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে মোট ভোটার প্রায় তিন লাখ ৩০ হাজার ৭৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭০ হাজার ৪৭১ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৬০ হাজার ২৯২ জন। বর্তমানে নিকলী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ২৮ হাজার ৫৯ জন।
১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণ সরাসরি কোনো প্রস্তাব, আইন বা রাজনৈতিক বিষয়ে মতামত প্রদান করে। গণভোটের ফল কখনো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক, আবার কখনো পরামর্শমূলক হয়ে থাকে। সহজভাবে বলা যায়, এটি জনমত যাচাইয়ের একটি কার্যকর পদ্ধতি।
তবে হাওরাঞ্চলের ভোটারদের হতাশার বিষয় হলো গণভোটের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে অনেক নেতাকর্মীরও পরিষ্কার ধারণা নেই। ফলে সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ পুরোপুরি অনভিজ্ঞই থেকে যাচ্ছে। নিকলী-বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম-ইটনা ও মিঠামইনসহ আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের নির্বাচন আচরণবিধি মেনে মাঠে সক্রিয় দেখা গেলেও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা তেমন নেই।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আতিকুল ইসলাম চৌধুরী হেলিম বলেন, গণভোট নিয়ে দৃশ্যমান প্রচার-প্রচারণা নেই। তিনি নিজেও বিষয়টি পুরোপুরি জানেন না বলে স্বীকার করেন এবং সরকারি বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জনগণকে সচেতন করার দাবি জানান। নিকলীর আঠারবাড়িয়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো: বাহা উদ্দিন বলেন, গণভোট সম্পর্কে তার ধারণা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। জারইতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আব্দুস ছোবান জানান, বিষয়টি তুলনামূলকভাবে জটিল হওয়ায় আগেভাগে ব্যাপক প্রচার করাটা জরুরি, নতুবা ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: মাকসুদ আলম বলেন, গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণ শুরু হয়েছে এবং স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে প্রচার চালানো হবে।



