নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এক বিবৃতিতে এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) নেতারা বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় এক রোগীর চিকিৎসা নিয়ে বাগি¦তণ্ডার জেরে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক হিমেলের এক বন্ধুর আত্মীয়কে হাসপাতালে আনা হলে ভর্তিসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণে চিকিৎসা শুরু করতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় পার হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হিমেল ও তার সাথে থাকা ১০ থেকে ১২ জন সার্জারি বিল্ডিংয়ের ৪২৯ নম্বর কক্ষে ঢুকে সহকারী রেজিস্টার, ট্রেইনি এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শারীরিক নির্যাতন করে। প্রত্যক্ষদর্শী এক চিকিৎসক জানান, হামলার সময় হিমেল বারবার নিজের পরিচয় দিয়ে এক চিকিৎসকের কলার ধরে বলেন, ‘আমাকে চিনস? আমি জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক।’
এই হামলার প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ সব বিভাগে কর্মবিরতি পালন করছেন চিকিৎসকরা। এসআইডিএ এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা চার দফা দাবি জানিয়েছে।
হামলার একপর্যায়ে চিকিৎসকরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ধাওয়া খেয়ে হিমেল হাসপাতালের একটি টয়লেটে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে পুলিশি পাহারায় সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এই বিষয়ে জবি মেহেদী হাসান হিমেল জানান, হাসপাতালে আগে থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো: ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
উল্লেখ্য, জবি ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে এর আগেও এক অধ্যাপককে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে নিয়ে নির্যাতন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছিল। ভুক্তভোগী ডা: মোশাররফ হোসাইন জানিয়েছিলেন, হিমেল তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিলেন।



