জালাল উদ্দিন মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার এক নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছেন। প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটে এলাকাবাসীর। বছরের পর বছর ধরে চলমান এই ভাঙনে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফতেপুর ইউনিয়নের শাহাপুর, বেড়কুরি, মোল্লাবাড়ি, জাহিদপুর, আব্দুল্লাহপুর, চরকারপার ও কাশিমপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রাম বর্তমানে নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেক পরিবার এমন অবস্থায় পড়েছে যে, তাদের নিজস্ব কোনো থাকার জায়গা নেই; অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে ঘর তুলে দিন কাটাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মিরাশ মিয়ার অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে নদীভাঙন চললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি কর্মকর্তার কার্যকর উপস্থিতি দেখা যায়নি। এক নম্বর ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক টিটু বলেন, আমি এ সমস্যা সম্পর্কে সাবেক উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম এবং বর্তমান উপজেলা প্রশাসনকেও অবহিত করেছি; কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
অন্য দিকে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ জানান, ফতেপুর ইউনিয়ন ও মনমুখ ইউনিয়নসহ মোট প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন রয়েছে। আমি নিজে সরেজমিন গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং একটি কাজের ড্রাফট প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। তবে এখনো ফান্ড না আসায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এ দিকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আসন্ন বর্ষায় নদীভাঙন আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অবিলম্বে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



