নজরুলের সাম্যবাদীর একশ’ বছর

Printed Edition
নজরুলের সাম্যবাদীর একশ’ বছর
নজরুলের সাম্যবাদীর একশ’ বছর

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

‘গাহি সাম্যের গান/ যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান।/ যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিষ্টান।’/(সাম্যবাদী)... এই কণ্ঠস্বর শুধু সাহিত্যিক উচ্চারণ নয়, ছিল শোষিত মানুষের মুক্তির মন্ত্র। বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম এক বিস্ময়কর প্রতিভা। তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং সর্বোপরি বিদ্রোহী চেতনার প্রতীক। তার সাহিত্য জীবনের অন্যতম প্রধান বৈশ্যি হলো সাম্যবাদী ও মানবতাবাদী আদর্শ। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে, শ্রেণী-বৈষম্য ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তিনি যে কাব্যরস সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিবাদ উচ্চারণ করেছেন, তা বাংলা কাব্যে এক অভিনব দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

১৯২৫ সালে যখন কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, তখন ভারতবর্ষ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতায় জ্বলছে। ধর্ম, বর্ণ, জাতি এবং শ্রেণীর বিভাজন সমাজে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল।

বিশ্ব ইতিহাসের এক উত্তাল সময়ে নজরুল সাহিত্য ক্ষেত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসনের দমননীতি, শ্রমিক-জনগণের উপর শোষণ, জমিদার ও মহাজনী প্রথার অত্যাচার- এসবই তার কবি সত্তাকে ঝাঁকিয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব বিশ্ব রাজনীতিতে এক বৈপ্লবিক চেতনা ছড়িয়ে দেয়। সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক আন্দোলনের আদর্শ ভারতবর্ষের তরুণ মেধাবীদের মধ্যে আলোড়ন তোলে। নজরুল সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন এসব খবর পড়তেন এবং প্রগতিশীল সাহিত্য-চিন্তায় অনুপ্রাণিত হন। এই প্রেক্ষাপটেই জন্ম নেয় ‘সাম্যবাদী’ কবিতাও পরবর্তীকালে একই নামে তার কাব্যগ্রন্থ। এতে তিনি কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলেননি; বরং এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন এঁকেছিলেন; যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এমন এক সময়ে নজরুলের এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন যা এক প্রবল ঝড়ের মতোন, যা সমাজের প্রচলিত বিশ্বাসকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ‘সাম্যবাদী’ কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, বরং এটি ছিল মানবপ্রেম, মানবিকতা এবং বিশ্বজনীন ঐক্যের এক বিপ্লবী ইশতেহার। এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই অমর সৃষ্টির গভীরতা, প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রভাব বিশ্লেষণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।

এবার ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের গঠন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে সামান্য আলোকপাত করা যাক। ১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ নজরুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। এখানে অন্তর্ভুক্ত কবিতাগুলোতে তিনি সাম্য, স্বাধীনতা, বিদ্রোহ, মানবিকতা ও প্রলয়ের চেতনা মিশিয়ে এক অগ্নিগর্ভ কাব্যভাষা নির্মাণ করেছেন।

সাম্যবাদী কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ। কাব্যের প্রতিটি কবিতা প্রচলিত শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির আহ্বান জানায়। মূলত শ্রেণী-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চারতা, জমিদার-মহাজন, ধনী-গরিবের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ, রূপকল্প ও প্রতীক ব্যবহারে সাহসী ভঙ্গি, অগ্নি, ঝড়, প্রলয়, বজ্রপাত ইত্যাদি প্রতীক দিয়ে কবি বিপ্লবের রূপকল্প নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক চেতনা কেবল ভারতীয় সমাজ নয়, সমগ্র মানবজাতির মুক্তি ও সাম্যের ডাক এখানে প্রতিধ্বনিত। তবে আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে ভাষার শক্তি। খোলা, সাহসী, তীক্ষè শব্দচয়ন যেন কাব্যের প্রতিটি পঙ্ক্তি যেন বজ্রনিনাদ।

এবার আসুন সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের প্রধান কয়েকটি কবিতার উপর সামান্য বিশ্লেষণ করা যাক। প্রথমেই নাম ভূমিকার কবিতা সাম্যবাদী। এই কবিতায় কবি শ্রেণী-বৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ধনী-গরিব, ব্রাহ্মণ-চণ্ডাল, শ্বেতাঙ্গ-কালো সব মানুষ সমান। কবির ভাষায় সাম্যের ঘোষণা এক ধরনের মানবিক ধর্মে রূপান্তরিত হয়েছে। বিখ্যাত ও পাঠক নন্দিত এই কবিতায় তিনি লেখেন : ‘মসজিদ এই মন্দির এই গির্জা এই, এই হৃদয়ের তলে/ নানারূপ ধরে ভগবান সেথা বিরাজ করে কৌতূহলে।’ তবে ‘সাম্যবাদী’

কাব্যের শিরোনাম কবিতাটিই মূল ভিত্তি। এখানে নজরুল বলেন, ‘আমি চির-বিদ্রোহী বীর/ বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির।’ এই কবিতায় তিনি ঘোষণা করেন, বর্ণ-ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে সব মানুষ সমান। তার সাম্যের ডাক মানবতার সর্বজনীন মন্ত্রে পরিণত হয়েছে। নজরুল বুঝিয়ে দিয়েছেন, ঈশ্বর বা আল্লাহ কোনো নির্দি’ ধর্ম বা জাতির সম্পত্তি নন; তিনি সব মানুষের হৃদয়ে বিরাজমান। তার কাছে ধর্ম হলো মানুষকে একত্র করার একটি মাধ্যম, বিভক্ত করার নয়। ‘কুলি-মজুর’ কবিতায় তিনি ধর্মের নামে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলেন এবং দেখান যে, শ্রমজীবী মানুষেরা সব বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করে। তিনি লিখেছেন, ’ধর্ম, ধর্ম, সে কি শুধুই ধর্ম?/ ধর্ম অর্থ, কর্ম অর্থ, সাম্য অর্থ, প্রেম অর্থ/ অর্থ অর্থ/ এই জগতের সব মানুষের একই ধর্ম।’ এই চরণগুলোতে নজরুল অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথাও তুলে ধরেছেন, যা তার সাম্যবাদী চেতনারই একটি অংশ।

সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের আরো একটি বিখ্যাত কবিতা ‘দুর্দম’। কবি বলেছেন, দুর্দম! দুর্বার! আমি দুর্বার! আমি অভিশাপ-ঘেরা।’ এখানে কবি শ্রমিক-জনতার অদম্য শক্তিকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করেছেন।

এখানে কবি শ্রমিক, কৃষক, নিপীড়িত জনতার দুর্দম শক্তির কাব্যিক প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি ঘোষণা দেন, শোষকের শৃঙ্খল ভেঙে তারা জেগে উঠবে এবং পৃথিবী কাঁপিয়ে তুলবে। ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় নজরুল বিপ্লবকে প্রলয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এসো প্রলয়, এসো প্রলয়! ভাঙ্রে ভাঙ্রে সব।’ তার দৃষ্টিতে পুরনো শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে হলে প্রলয়ের মতো ধ্বংস দরকার আর সেই ধ্বংসের মধ্য দিয়েই জন্ম নেবে নতুন সমাজব্যবস্থা। ‘লিচ্ছবী’ কবিতায় কবি সমতা ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতীক লিচ্ছবী প্রজাতন্ত্রকে স্মরণ করেছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, ভারতীয় ঐতিহ্যেও সাম্যের বীজ নিহিত আছে। আরো একটি চমৎকার বিষয় হলো যে. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের সঙ্গে সাম্যবাদী’র একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যদিও ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে সরাসরি সাম্যবাদী ঘোষণা নেই, তবু সেখানে বিদ্রোহ ও শোষণ বিরোধী ভাষা সাম্যবাদী চেতনারই পূর্বরূপ। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

মূলত ’সাম্যবাদী’ কাব্যের মূল ভিত্তি হলো মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা। নজরুল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, কোনো ধর্ম, কোনো গ্রন্থ বা কোনো প্রতিষ্ঠান মানুষের চেয়ে বড় নয়। কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা ‘সাম্যবাদী’-তেই তিনি এই মূল সুরটি বাজিয়ে তুলেছেন: ‘গাহি সাম্যের গান/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’

নজরুলের এই ঘোষণা ছিল প্রচলিত ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিবাদ। তিনি দেখিয়েছেন যে, মানুষই হলো সব সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু এবং মানুষের কল্যাণই হওয়া উচিত সব ধর্মের মূল লক্ষ্য। তিনি মানুষ কবিতায় বলেন, ‘পূজিছে গ্রন্থ, পূজিছে মন্দির, পূজিছে দেবতা/ পূজিছে মানুষে মানুষ, পূজা সেথা।’

এই লাইনগুলোতে তিনি মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ উপাসনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি মূলত ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। বলা বাহুল্য যে, তৎকালীন সময়ে যখন হিন্দু-মুসলিম বিভাজন চরমে পৌঁছেছিল, তখন নজরুল তার কাব্যে এই বিভেদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, মন্দির-মসজিদ, কাবা-কাশী, বাইবেল-কুরান এ সব কিছুই আসলে একই সত্যের দিকে নির্দেশ করে।

‘সাম্যবাদী’ কাব্যে নজরুল পাপ ও পুণ্যের প্রচলিত ধারণাকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তার মতে, মানুষকে ঘৃণা করা, অসম্মান করা বা বঞ্চিত করাই সবচেয়ে বড় পাপ। অপর দিকে মানুষকে ভালোবাসা, সাহায্য করা এবং তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ পুণ্য। ‘পাপ’ কবিতায় তিনি বলেন,

‘পাপ তো নয় মানুষের ধর্ম/পাপ তো নয় ঈশ্বরের কর্ম/ পাপ তো নয় শুধু ভুলের ফল/ পাপ তো নয় কিছু নয়/ যদি তারে দেখি ঘৃণা করি/ যদি তারে আমরা ঘৃণার চোখে দেখি/ যদি তারে রাখি দূরে, দূরে...’ এই কবিতায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, মানুষের প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য এবং অবিচারই হলো প্রকৃত পাপ।

এবার সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের সমসাময়িক প্রতিক্রিয়া বিষয়ে দু-চার কথা না বললেই নয়। নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ প্রকাশিত হওয়ার পর সমাজে প্রবল আলোড়ন ওঠে। অনেকে একে অতি বিপ্লবী ও বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছিলেন। ব্রিটিশ সরকার তার অনেক কবিতা ও পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করে। আবার প্রগতিশীল তরুণেরা তাকে যুগস্রষ্টা হিসেবে গ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথও নজরুলের প্রতিভার স্বীকৃতি দেন, যদিও তার কবিতার প্রচণ্ডতা নিয়ে খানিকটা শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সমকালীন পণ্ডিতেরা বলেছিলেন, ‘নজরুল বাংলার রক্তে সাম্যের আগুন জ্বালিয়ে দিলেন।’ বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, ‘নজরুল ছিলেন বাংলার কবিতার প্রথম সত্যিকারের বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর।’

হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন, ‘নজরুলের সাম্যবাদী কবিতা কেবল রাজনৈতিক সেøাগান নয়, ছিল গভীর মানবতাবাদী আবেগে পূর্ণ। এ জন্যই তিনি আজও প্রাসঙ্গিক।’ অন্যদিকে আবদুল মান্নান সৈয়দ মন্তব্য করেন, ‘সাম্যবাদী নজরুলের সেই মুখ, যেখানে বিদ্রোহ ও মানবপ্রেম মিলেমিশে গেছে।’

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নয়, এটি একটি চিরন্তন মানবিক দলিল। শতবর্ষ পরেও এর বাণী আমাদের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আজও বিশ্বে ধর্মীয় সঙ্ঘাত, জাতিগত বিদ্বেষ এবং শ্রেণী-বৈষম্য বিদ্যমান। নজরুলের সাম্যের বাণী আজও আমাদের পথ দেখায়। এই কাব্যগ্রন্থ আমাদের শেখায় যে, সত্যিকারের মুক্তি আসে মানুষের হৃদয়ে সাম্য ও ভালোবাসার বীজ বপনের মাধ্যমে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি শান্তিময় ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়তে হলে আমাদের সব প্রকার বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হতে হবে। নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ কাব্য তাই কেবল অতীতের সাহিত্য নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্যও একটি উজ্জ্বল দিকনির্দেশনা। এটি আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, এবং মানবিকতাই হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে যত বেশি আলোচনা হবে; মানুষের মাঝে সত্য, ন্যায়, সুন্দর এবং মানবতা বোধ তত বেশি জাগ্রত হবে। অসত্য, অসুন্দর এবং অসাম্য সমাজ থেকে চিরতরে দূরীভূত হবে।

সবশেষে বলতে চাই, এক শতাব্দী পেরিয়েও ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ আজও তাজা, প্রাসঙ্গিক। পৃথিবীর কোথাও যখন বৈষম্য, শোষণ, যুদ্ধ, ধর্মীয় বিভেদ চলমান, তখন নজরুলের আহ্বান আরো বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। তার কণ্ঠস্বর আমাদের শোনায়, ‘গাহি সাম্যের গান/ যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান।’ অতএব, শতবর্ষ পরে দাঁড়িয়ে আমরা বলতে পারি- ‘সাম্যবাদী’ কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, মানবতার জয়গান।