জুলাই জাদুঘরে ইতিহাসের বড় অংশ আড়াল করা হয়েছে : মামুনুল হক

Printed Edition
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে বক্তব্য রাখেন মামুনুল হক  : নয়া দিগন্ত
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে বক্তব্য রাখেন মামুনুল হক : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ইতিহাসের একটি বড় অংশ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। বিশেষ করে ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি জাদুঘরে স্থান না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওই একটি দৃশ্য পুরো বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছিল। সেটি জাদুঘরে স্থান পাবে না- এটি কোনোভাবেই চিন্তা করা যায় না।

গতকাল রোববার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, ২০১৩ সালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর সারা দেশে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এখানে সংরক্ষিত হয়নি। ২০১৫-১৬ সালে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার পর সারা দেশে যে আন্দোলন হয়েছিল- সেটিও যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলের বড় আন্দোলনগুলোর একটি ছিল এটি। সেই আন্দোলনেরও উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি এখানে সংরক্ষিত হয়নি। অথচ ওই সময়ের শহীদ ও আহত ব্যক্তিরা এখনো আমাদের মধ্যে জীবন্ত ইতিহাস হয়ে রয়েছেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার স্মৃতিগুলো যেভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করা হয়েছে, একইভাবে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিগুলোও সংরক্ষণ করা দরকার। কোনো রাষ্ট্রের বর্বরতার প্রমাণ থাকলে সেটিও ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত হওয়া উচিত। কারো মুখের দিকে তাকিয়ে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ও বেদনাবিধুর স্মৃতি সংরক্ষণ থেকে পিছিয়ে থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, প্রতিটি ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যকে তার মূল চেতনাসহ ধারণ করা উচিত। ফ্যাসিবাদের সময়ে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ছিল। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী মানুষের ভাস্কর্য থাকতে পারে না। সে জায়গা থেকে শাপলা চত্বরের শহীদদের মুখাবয়ব বাদ দিয়ে তাদের স্মৃতি ও ঘটনাকে চিত্রিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় তার সাথে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমাদ, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকীবুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী প্রমুখ।