ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ শুরুর মাস দুয়েক আগে হঠাৎ করেই ঘানার কোচের দায়িত্ব পান কার্লোস কেইরস । ৭৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই পর্তুগিজ কোচ এখন রেকর্ড বইয়ে নাম লেখানোর দ্বারপ্রান্তে। উত্তর আমেরিকা আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটায় টরেন্টোতে পানামার মুখোমুখি হবে ঘানা। দায়িত্ব নেয়ার সময় কেইরস বলেছিলেন, ‘আমি প্রস্তুত। প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমার ৪০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নেবো।’
‘এল’ গ্রুপের ম্যাচটি শুরুর সাথে সাথে কোচ হিসেবে টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে ডাগআউটে দাঁড়ানোর কীর্তি গড়বেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা আছে শুধু একজনের বোরা মিলুতিনোভিচের। ১৯৮৬ থেকে ২০০২ পর্যন্ত পাঁচটি ভিন্ন জাতীয় দলের (মেক্সিকো, কোস্টারিকা, যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, চীন) দায়িত্বে বিশ্বকাপে অংশ নেন এই সার্বিয়ান কোচ।
ব্রাজিলিয়ান কার্লোস আলবের্তো পারেইরা একমাত্র কোচ হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের রেকর্ড আছে, তবে সেটা টানা নয়। তার কোচিংয়ে বিশ্বকাপে খেলেছে কুয়েত (১৯৮২), সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৯৯০), ব্রাজিল (১৯৯৪, ২০০৬), সৌদি আরব (১৯৯৮) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১০)। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতান তিনি।
এবার পেরেইরার পাশে বসতে পারতেন কেইরসও। তার কোচিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০২ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে মতবিরোধের জেরে মূল টুর্নামেন্টের আগে ওই বছরের মার্চে তিনি পদত্যাগ করেন। অবশেষে বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে অভিষেক হয় ২০১০ সালে পর্তুগালের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের টানা তিনটি বিশ্বকাপে ইরানের কোচ ছিলেন তিনি। চলতি আসরে ঘানার দায়িত্ব তার কাঁধে।
পরপর কয়েকটি প্রীতি ম্যাচের হতাশাজনক ফলের পর, বিশ্বকাপ শুরুর ৭২ দিন আগে গত মার্চে তখনকার কোচ অটো আডোকে বরখাস্ত করে ঘানা। তার জায়গাতেই এপ্রিলের মাঝামাঝি দায়িত্ব পান কেইরস। হুট করে ঘানার কাছ থেকে ডাক পাওয়ার আগে ধারণা করা হচ্ছিল, কেইরসের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ার হয়তো শেষ হয়ে গেছে। রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব সামলানো, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সহকারী হিসেবে কাজ করাসহ অনেক দলকে কোচিং করিয়েছেন তিনি। ঘানার আগে গত মার্চ পর্যন্ত তিনি ওমানের দায়িত্ব ছিলেন। যেটি ছিল তার অষ্টম ভিন্ন জাতীয় দলের দায়িত্ব।



