করোনা ও ডেঙ্গু সমান তালে চলছে করোনায় ২ ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

Printed Edition
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। মুগ্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা মশারি টাঙিয়ে থাকছেন : নয়া দিগন্ত
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। মুগ্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা মশারি টাঙিয়ে থাকছেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে করোনা (কোভিঢ-১৯) ও ডেঙ্গু সমান তালে চলছে। দুটি ভাইরাসের সংক্রমণেই মৃত্যু হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে করোনায় দুই জনের মৃত্যু হলেও ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। করোনা ভাইরাসের নতুন একটি সাব ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয় হওয়ায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর কোন সেরোটাইপ সক্রিয় তা স্বাস্থ্য অধিদফতর এখনো বলেনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, উল্লেখিত ২৪ ঘণ্টা সময়ে দেশে ১৭৪ জনের করোনা সংক্রমণ পরীক্ষা করে ১৫ জনকে শনাক্ত পাওয়া গেছে। করোনায় যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এদের দু’জনই নারী। তাদের একজনের বয়স ৩০ বছরের নিচে এবং অন্যজন ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। করোনায় মৃতদের একজন রাজশাহী এবং আরেকজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অন্য দিকে একই সময়ে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমিত হয়ে ১৫৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এই ১৫৯ জনের মধ্যে ১২৪ জনই বরিশাল বিভাগের। ১২ জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের, ৯ জন ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে), ৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং অপর পাঁচজনের মধ্যে একজন ঢাকা উত্তর সিটির, একজন সিলেট বিভাগে এবং তিনজন খুলনা বিভাগের। এ ছাড়া বরগুনার হাসপাতালে সব মিলিয়ে এখনো ১৭০ জনের বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন বরগুনায় এত বেশি ডেঙ্গু তা খুঁজে দেখার দাবি উঠেছে।

অন্য দিকে করোনা আক্রান্তদের বেশির ভাগই এখন পর্যন্ত রাজধানী কেন্দ্রিক। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতেই ৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে রোগটিতে। করোনা আক্রান্তদের অবশ্য হাসপাতালে এখনো থাকতে হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল উল্লেখিত সময় পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮ জন করোনা রোগী ভর্তি আছেন।

চলতি বছর একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের গত ২৪ ঘণ্টাতেই প্রথম। এর আগে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় এতো মৃত্যু হয়নি। ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন পাঁচ হাজার ১১ জন। চলতি বছরের ১৩ জুন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী রয়েছেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে একলাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় ও পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

দর্শনার চেকপোস্টে করোনা সতর্কতা

দর্শনা জয়নগর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাড়তি করোনা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামে আরো দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনা সংক্রমণের হার আবারো বাড়তে থাকায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা জয়নগর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ভারত থেকে ফেরা যাত্রীদের করোনার উপসর্গ আছে কি না তা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশের পর্যটকগণ যাতায়াত করে থাকে।

দর্শনা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, পাসপোর্ট যাত্রীদের মুখে মাস্ক পরিধান করে এবং নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে পাসপোর্ট ও ব্যাগ ব্যাগেজ তল্লাশির করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে কর্তব্যরত স্বাস্থ্য সহকারী শামীম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে চিঠি পেয়েছি। ভারতের কিছু এলাকায় জেনেটিক সিকোয়েন্স পরীক্ষায় ওমিক্রনের এক্সবিবি ধরন শনাক্ত হয়েছে। এ সংক্রমণ যাতে বাংলাদেশে না ছড়ায়, সে লক্ষ্যে সব ভারত ফেরত যাত্রীর শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ আছে কি না পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দর্শনা ইমিগ্রেশন সহকারী ইনচার্জ এ এস আই তারেক জানান, গত তিন দিন ধরে অর্থাৎ বুধবার থেকে পাসপোর্ট যাত্রীদের সাবধানতা অবলম্বন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের শূন্য রেখায় ভারত ফেরত যাত্রীদের হেলথ বুথে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি করোনার কোনো উপসর্গ আছে কি না সেটা দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে কোনো যাত্রী ভারত থেকে আসেনি। তিনি আরো জানান, ১১ জুন থেকে আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩১২ জন যাত্রী যাতায়াত করেছে। এর মধ্যে ভারত থেকে ১৩৬ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী বাংলাদেশে এসেছে। আর এ সময়ে ভারতে গেছে ১৭৬ জন যাত্রী। এর মধ্যে ২৪০ জন বাংলাদেশী ও ৭০ জন ভারতীয় নাগরিক।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: হাদি জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ জানান, চেকপোস্টে সতর্কতার সাথে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, তবে ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। আমাদের জেলায় এখনো করোনা ভাইরাসের কোনো পজিটিভ রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামে আরো ২ জন করোনায় আক্রান্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো দুইজনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নগরের একটি বেসরকারি রোগ নিরূপণ কেন্দ্রে করা পরীক্ষায় দুইজনের করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছে।

নতুন করে সংক্রমিত দুইজনই চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার বাসিন্দা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন দুইজনসহ চলতি বছরে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল আটজনে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় সাতজন এবং শহরের বাইরের একজন আছেন।