গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৫, আহত ৮

Printed Edition

হারেটজে

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার জানিয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় পঁাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি আগে আহত হওয়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, এই হামলায় নতুন করে আরো আটজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হতাহতদের কয়েকজন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছেন। অ্যাম্বুলেন্স এবং গাজার সিভিল ডিফেন্সের জরুরি চিকিৎসা দল সেখানে পৌঁছাতে না পারায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী মুক্তি চুুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৯০৪ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এই সময়ে আহত হয়েছেন আরো দুই হাজার ৭১৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো যোগ করেছে যে, যুদ্ধবিরতির আগে ধ্বংস হওয়া ভবনগুলো থেকে তারা এ পর্যন্ত ৭৭৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার মধ্য গাজার একটি শরণার্থী শিবিরের একটি ফ্ল্যাটে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক ছয় মাসের শিশুসহ তিনজন নিহত হন।

চিকিৎসকরা নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে নিহত এই তিনজনের নাম শনাক্ত করেছেন। তারা হলেন শিশুর বাবা মোহাম্মদ আবু মাল্লুহ, মা আলা জাকলান এবং তাদের সন্তান ওসামা। ঐদিনই শেষের দিকে উত্তর গাজা উপত্যকার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে জাতিসঙ্ঘ পরিচালিত একটি চিকিৎসা ক্লিনিকের কাছে ইসরাইলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। এ দিকে গাজায় কর্মরত সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সেখানকার মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অনুমান অনুযায়ী, ছিটমহলটির বাইরে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে না পারার কারণে প্রতিদিন সেখানে ছয় থেকে ১০ জন মানুষ মারা যাচ্ছেন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় আট লাখ মানুষ এখনো তাঁবুতে বসবাস করছেন।

গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে অধিকৃত অঞ্চলের সরকারি কার্যক্রম সমন্বয়কারী সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইল দ্বৈত-ব্যবহারের সামগ্রীর (যা সামরিক কাজেও লাগতে পারে) ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে।