নিজস্ব প্রতিবেদক
সমাজকল্যাণ, সাংবাদিকতা, উদ্যোক্তা ও ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য চার নারীকে দেয়া হয়েছে ‘রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা ২০২৫’। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও সাংবাদিকতা, সমাজকল্যাণ, ক্রীড়াঙ্গন এবং ব্যবসায় উদ্যোগ- এই চারটি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য চারজন কীর্তিমতী নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয় ।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত মনোনয়ন এবং অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে চার কীর্তিমতী নির্বাচিত করা হয়। বিশেষজ্ঞ প্যানেলে নির্বাচক হিসেবে ছিলেন এখন টিভির সম্পাদকীয় প্রধান তুষার আবদুল্লাহ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুটিপার প্রতিষ্ঠাতা তাসলিমা মিজি, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা মামুন এবং ডিক্যাস্টালিয়া লিমিটেডেরর পরিচালক সাবিলা ইনুন। অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয় জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য কীর্তিমতী সাংবাদিক সম্মাননা পান কাওসার সোহেলী। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য ‘বঞ্চিতা’ নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কীর্তিমতী হিতৈষী সম্মাননা পান নূর নাহার। বহুমাত্রিক কৃষি ও খামার উদ্যোগের মাধ্যমে দেশজুড়ে অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মোছা: সুরাইয়া ফারহানা রেশমা কীর্তিমতী উদ্যোক্তা সম্মাননায় ভূষিত হন। এ ছাড়া দুইবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের সদস্য ঋতুপর্ণা চাকমা কীর্তিমতী ক্রীড়াবিদ হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন। বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেন উপস্থিত বিশেষ অতিথিরা।
স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: পারভেজ সাইফুল ইসলাম বলেন, নারীদের নিয়ে আমাদের এই পথচলা ২০ বছরে পা রেখেছে। সমাজের বিভিন্ন অবদান রাখা নারীদের সম্মানিত করার চেষ্টায় এই কার্যক্রম। কারণ নারীদের অগ্রগতি মানে জাতির অগ্রগতি। ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে ‘গিভ টু গেইন’ থিমটি আমাদের কাছে একটি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, নারীদের প্রতি সম্মান, স্বীকৃতি ও সহযোগিতার আরেক অর্থ সমাজের অগ্রগতিতে বিনিয়োগ করা। একজন নারী এগিয়ে গেলে তার সাথে এগিয়ে যায় পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও পুরো দেশ। কীর্তিমতী সম্মাননার মাধ্যমে আমরা সেই ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হতে চাই এবং নারীদের অর্জনকে যথাযথ মর্যাদা দিতে চাই।
বিসিবি উইমেন উইংসয়ের চেয়ারপারসন এবং ওরাকল বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা বলেন, নারী ক্রিকেটাররা অনেক পথ পেরিয়ে এগিয়ে আসে। আমাদের উচিত তাদেরকে আরো সুযোগ করে দেয়া। কারণ সমাজে তাদেরও অবদান থাকা জরুরি। আজকে যারা সম্মানিত হয়েছেন তারা সমাজের অহঙ্কার।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমাদের দেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে আছে। সাংবাদিকতার মতো পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ কম নয়। তা ছাড়া কৃষিতে ৫০ শতাংশের বেশি নারীদের অবদান রয়েছে। যারা সমাজের জন্য কিছু করতে চায় তাদের জন্য শুভ কামনা থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, বিপণন বিভাগের প্রধান ইমতিয়াজ ফিরোজ, অ্যাডকম লিমিটেডের চেয়ারপারসন গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবানা হক, দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও সিইও দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এবং স্কয়ার গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শিল্পী জীবন রায় প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে শক্তিতে রূপান্তর করে নারীদের সম্ভাবনার শিখরে পৌঁছানোর বার্তা নিয়ে একটি বিশেষ ‘স্যান্ড আর্ট’ পরিবেশন করেন।


