কালীগঞ্জ ইউএনও অফিসের কর্মকর্তা ৯ বছর একই কর্মস্থলে

Printed Edition

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

সরকারি চাকরিতে তিন বছর পর পর বদলির স্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বিগত ৯ বছর ধরে বহাল তবিয়তে আছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) যুথিকা বিশ্বাস। দীর্ঘ সময় একই সংবেদনশীল পদে থাকার সুবাদে তিনি অফিসে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিপুল অঙ্কের অবৈধ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, যুথিকা বিশ্বাস ১৯৯৯ সালে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৫ সালে কালীগঞ্জে আসার পর ২০১৭ সালে পার্শ্ববর্তী কোটচাঁদপুরে বদলি হন। কিন্তু মাত্র ছয় মাস পরেই তদবিরের জোরে পুনরায় কালীগঞ্জে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এখানেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে দাফতরিক ফাইলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে তিনি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি নিজের গ্রাম মহাদেবপুরের তিনজনকে উপজেলার বিভিন্ন দফতরে মাস্টাররোলে চাকরি দিয়েছেন। এর মধ্যে কোনো নিয়োগপত্র ছাড়াই অমিত বিশ্বাস নামের এক যুবককে ইউএনও অফিসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও কম্পিউটারের কাজ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া একই গ্রামের সুবোদ বিশ্বাসকে ইউএনওর গাড়িচালক ও অলিভ বিশ্বাসকে মৎস্য অফিসে মাস্টাররোলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এই কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। যার মধ্যে প্রকৃত বেতন মাত্র ২৩ লাখ টাকা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ফাইল আটকে রাখা, অনুদান বরাদ্দসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমেই এই অর্থ অর্জিত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে যুথিকা বিশ্বাস বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়োগ দিয়েছেন, আমি কিছু জানি না। আর বদলির বিষয়টি সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষের হাতে। ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ জানান, অমিত বিশ্বাস পরিষদের কেউ নন এবং তাকে কোনো বেতন দেয়া হয় না। অন্যান্য নিয়োগগুলো তার যোগদানের পূর্বের ঘটনা।