হ্যাপি নিউ ইয়ার

Printed Edition
হ্যাপি নিউ ইয়ার
হ্যাপি নিউ ইয়ার

মো: রাজিব হুমায়ুন

ঘড়িতে রাত ১২টা ১ মিনিট বাজতেই চার পাশে কয়েকটি আতশবাজির শব্দ শোনা গেল। তখন টুকুর বাবার মোবাইলে ভেসে উঠল- ঐধঢ়ঢ়ু ঘবি ণবধৎ ২০২৬।

টুকু জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চুপচাপ দেখছিল। আশপাশে খুব বেশি হইচই নেই। কেউ কেউ আনন্দ করছে, কেউ আবার ক্লান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছে। টুকুর মনে হঠাৎ এক প্রশ্ন জাগল। সে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘নতুন বছর শুরু হলো মা; কিন্তু মূলত কী বদলাল’?

মা পাশে এসে বললেন, ‘নতুন বছর, নতুন দিন বাবা’।

টুকু দ্বিধাভরা কণ্ঠে বলল, ‘কিন্তু মা, শুধু দিন বদলালেই কি সব কিছু নতুন হয়ে যায়?’

মা হেসে বললেন, ‘না বাবা, দিন নয়; মানুষ বদলালেই সব কিছু নতুন হয়।’

পরদিন সকালে টুকু স্কুলে গেল। ক্লাসে ঢুকতেই শিক্ষক বললেন, ‘তোমাদের সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। বলো তো, নতুন বছর মানে কী?’

মিনা বলল, ‘নতুন বছর মানে নতুন দিন।’

সানি বলল, ‘নতুন বছর মানে ক্যালেন্ডারের পাতা বদলানো।’

জনি বলল, ‘নতুন বছর মানে পড়াশোনার নতুন শুরু।’

রনি বলল, ‘নতুন বছর মানে পুরনো ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে সামনে এগোনোর সময়।’

নিপা বলল, ‘নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস।’

টুকু বলল, ‘নতুন বছর মানে ভুলগুলো ঠিক করার সুযোগ।’

শিক্ষক মৃদু হাসি দিয়ে টুকুর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘খুব ভালো বললে তুমি, টুকু। সত্যিই, নতুন বছর মানে শুধু নতুন দিন নয়; ভুলগুলো ঠিক করার সুযোগ।’

টিফিনের সময় টুকু লক্ষ করল, তাদের সহপাঠী রানা বেঞ্চে একা বসে আছে। সবাই তাকে এড়িয়ে চলে।

টুকু এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘চলো, একসাথে টিফিন করি।’

রানা প্রথমে অবাক হলো। তারপর তার মুখে হালকা হাসির রেখা ফুটে উঠল।

সেদিন বিকেলে টুকু তার দুই বন্ধু মিনু আর রুনুকে ডেকে বলল, ‘চলো, আমরা নতুন বছরটা একটু আলাদা করে শুরু করি।’

মিনু বলল, ‘কীভাবে?’

টুকু বলল, ‘এক দিনের জন্য হলেও ভালো কাজ দিয়ে।’

তারা তিনজন মিলে সিদ্ধান্ত নিলো, পাড়ার ভালো কাজগুলোতে সাহায্য করবে।

একজন বৃদ্ধ মানুষ রাস্তা পার হতে পারছিলেন না, তারা হাত ধরে পার করে দিলো।

একটি শিশু কাঁদছিল, তার মাকে ডেকে দিলো।

রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজের টুকরো ও শুকনো পাতা পরিষ্কার করে রাস্তার পাশে কিছু গাছের চারা রোপণ করল।

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে টুকু বাবাকে সব বলল।

বাবা বললেন, ‘তাহলেই তো হ্যাপি নিউ ইয়ার।’

টুকু অবাক হয়ে বলল, ‘মানে?’

বাবা বললেন, ‘নতুন বছর যদি মানুষকে একটু ভালো বানায়, সেটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ।’

রাতে পড়তে বসে টুকু খাতার শেষ পাতায় লিখল-

‘এই বছর আমি চেষ্টা করব-

  • মিথ্যা বলব না।
  • রাগ করব না।
  • কাউকে ছোট করব না।
  • অন্যকে সাহায্য করব।
  • ভালো কথা বলব।
  • সবসময় সৎ থাকব।’

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল, আবার ঠিক রাত ১২টা ১ মিনিট বাজে।

গত রাতের সেই সময়টা তার মনে পড়ে গেল।

টুকু জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার মানে শুধু শুভেচ্ছা নয়,

হ্যাপি নিউ ইয়ার মানে ভেতর থেকে ভালো হওয়ার চেষ্টা।’

তার মুখে হালকা হাসি ফুটল।

এবার সে বুঝে গেছে নতুন বছর সত্যিই শুরু হয়েছে।