রয়টার্স
ইরাকে আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও অনাস্থা দেখা দিয়েছে। দুই দশকের গণতান্ত্রিক চর্চা, বারবার নির্বাচনের আয়োজন এবং পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি- সবকিছু মিলিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ভোটের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই কমছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন ইরাকের রাজনৈতিক ব্যবস্থার টিকে থাকার জন্য একটি পরীক্ষার মতো। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেইনের পতনের পর থেকে দেশটিতে গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে উঠলেও দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং দুর্বল জনসেবা জনগণের আস্থা ধ্বংস করেছে। ২০১৯ সালের তিশরিন আন্দোলনের সময় যে সংস্কার ও জবাবদিহিতার দাবি উঠেছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।
এই নির্বাচনে সাত হাজার ৭৬৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে দুই হাজার ২৪৮ জন নারী, ৩২৯টি সংসদীয় আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু ভোটারদের বড় অংশ মনে করছেন, নির্বাচন কেবল ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি প্রক্রিয়া। অনেকেই বলছেন, ব্যালট বাক্সে ভোট দেয়ার মাধ্যমে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব নয়। বাগদাদ, মসুলসহ বিভিন্ন শহরে নির্বাচনী পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেলেও জনগণের মধ্যে কোনো উৎসাহ বা প্রত্যাশা নেই।
অনেকেই বলছেন, ‘আমরা ভোট দিয়েছি; কিন্তু আমাদের জীবন বদলায়নি।’ ২০০৫ সালে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ, যা এখন নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক জোটের মাধ্যমে।
অন্যদিকে, কিছু স্বতন্ত্র ও সংস্কারপন্থী দল তরুণদের সমর্থন পেতে চেষ্টা করছে, যদিও তাদের প্রভাব সীমিত।
এই প্রেক্ষাপটে, ইরাকের নির্বাচন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নয়, বরং জনগণের আস্থার সঙ্কট এবং রাজনৈতিক সংস্কারের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের ফলাফল যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো- এই প্রক্রিয়া কি জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে পারবে?



