নয়া দিগন্ত ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও সেতুতে ঘরমুখো মানুষের চাপ দ্রুত বাড়ছে। পদ্মা ও যমুনা সেতুকেন্দ্রিক সড়কপথে যানবাহনের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেলেও কোথাও মিলছে স্বস্তির চিত্র, আবার কোথাও সাময়িক ভোগান্তিও দেখা দিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও তদারকির কারণে অধিকাংশ স্থানেই যানচলাচল সচল রয়েছে এবং যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির শুরুতেই দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রীদের প্রধান ভরসা পদ্মা সেতুতে দেখা যাচ্ছে স্বস্তির চিত্র। যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও নেই যানজট। টোলপ্লাজায় কোথাও দীর্ঘ অপেক্ষার লাইন নেই। সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নির্বিঘেœ চলাচল করছে দূর পাল্লার যানবাহন।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত মিলিয়ে মোট ৩৮ হাজার ৫১৭টি যানবাহন পদ্মা সেতু পারাপার করেছে। এতে টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা। চলতি ঈদযাত্রায় এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ পারাপার ও টোল আদায়ের রেকর্ড।
এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৪ হাজার ৯৬৮টি এবং জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৩ হাজার ৫৪৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার (১৬ মার্চ) মোট ২৮ হাজার ৬২৩টি যানবাহন সেতু পার হয়, যা থেকে টোল আদায় হয় তিন কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা।
পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় গতকাল বুধবার সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে উভয় প্রান্তে টোল ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত জনবল নিয়োজিত রয়েছে।
এ দিকে ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। গণপরিবহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে এত চাপের মধ্যেও টোলপ্লাজায় কোনো দীর্ঘ সারি বা স্থবিরতা দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাওয়া প্রান্তে ১০টি এবং জাজিরা প্রান্তে ৯টি টোলবুথ চালু রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৯টি বুথ সচল থাকায় যানবাহন দ্রুত টোল পরিশোধ করে সেতু অতিক্রম করতে পারছে।
বুধবার দুপুরে সাইট অফিসে কথা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় বলেন, ‘যানবাহনের চাপ বাড়লেও টোল ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি সচল রয়েছে। অতিরিক্ত টোল কালেক্টর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত তদারকি থাকায় কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে না।’
তিনি আরো জানান, যাত্রী ও যানবাহনগুলো স্বল্পসময়ের মধ্যেই টোলপ্লাজা অতিক্রম করতে পারছে, ফলে ঈদযাত্রা এবার তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার ঘরমুখো মানুষ প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি গ্রামের করতে বাড়ি যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই ঈদযাত্রা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার মধ্যেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গত মঙ্গলবার রাতে দেখা দেয় তীব্র যানজন ও ভোগান্তি। তবে ভোরের হওয়ার পর পরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। সকালে মহাসড়কে ফিরে আসে স্বস্তি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানজট, ধীরগতি ও থেমে থেমে চলাচল করে যানবাহন। সড়কের শল্লা এলাকায় উত্তরাঞ্চলগামী লেনে একটি ট্রাক ও একটি বাস বিকল হয়ে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে যান দু’টি সরিয়ে নেয়া হলে সকাল থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে মহাসড়কের গোড়াই, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল বাইপাস, রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা ও যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় এলাকায় উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। গণপরিবহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল এমনকি খোলা ট্রাকেও কম ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানা ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হলে দুপুরের পর চাপ আরো বাড়তে পারে। এলেঙ্গা ফ্লাইওভার থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেন সম্প্রসারণকাজ চলমান থাকায় কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তবে, ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এ দিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই সেতু দিয়ে ৪৬ হাজার ৯৪৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৩৯ লাখ চার হাজার ৬৫০ টাকা। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৬ লাখ চার হাজার ৮০০ টাকা এবং উত্তরাঞ্চলগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে এক কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা।
যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘গার্মেন্ট ও কলকারখানায় ছুটি শুরু হলে চাপ আরো বাড়তে পারে।’ তিনি জানান, দ্রুত যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করতে সেতুর উভয় পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি টোলবুথ চালু রয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদাভাবে দুই পাশে দু’টি করে চারটি বুথ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে ঈদযাত্রায় বড় ধরনের ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।



