ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব বন্ধ এবং বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেশের পরিবর্তন ও সংস্কারের জন্য গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জনগণকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। হ্যাঁ ভোট দিলে পুলিশের সংস্কার, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যমের সংস্কার হবে- এমন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, আমরা এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না।’
সরকারের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, গ্যাস সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বিদ্যুৎ সঙ্কট এবং চাঁদাবাজির কারণে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে লুটপাটের জন্য নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ক্ষমতায় বসিয়েছে। আপনারা ক্ষমতায় বসে থাকবেন আর আপনাদের সন্তানরা লুটপাট করবে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে টেন্ডারবাজি করবে- এজন্য কেউ আপনাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে না।’
যাত্রাবাড়ীর নাগরিক দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, নগরবাসী এখনো ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন। যাত্রাবাড়ীতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সঙ্কট রয়েছে। অথচ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হটস্পট’ ছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাবেশে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী ও দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের ভূমিকার কারণেই অভ্যুত্থান সংঘটিত ও সফল হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই ঘটনার বিচার সম্পন্ন হয়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচারকাজ যতটুকু এগিয়েছিল, ততটুকুতেই তা থেমে আছে। এরপর বর্তমান সরকার এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।
স্থানীয় নির্বাচনেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে হবে : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ফ্রান্স শাখার উদ্যোগে ‘রিমেম্বারিং জুলাই হিরোজ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্যারিসের দশম অ্যারোন্ডিসমেন্টের একটি হোটেলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ফ্রান্স শাখার আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ইফতেশাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য তাওহিদা বেগম।
স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব কাউসার আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স শাখার সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর এবং এনসিপি গ্লোবাল ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।
সভায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সাবন্তি এবং গুম ও আয়নাঘরের ভুক্তভোগী মসরুর আনোয়ার চৌধুরী ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন।
এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ফ্রান্স শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার পাটোয়ারী বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জুলাইয়ের অসমাপ্ত বিপ্লব জনতা সম্পন্ন করতে বাধ্য হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে। এর ফলে তাদের প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসীরা বিপুল সংখ্যায় ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেয়ায় বিএনপি সরকার প্রবাসীদের ভয় পাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় নির্বাচনেও প্রবাসীদের ভোটাধিকারের দাবি জানাচ্ছি আমরা। সম্প্রতি বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিবের রংপুর বিভাগ নিয়ে দেয়া বক্তব্যেও এমন চিত্র উঠে এসেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতি পুনর্গঠনের লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। জুলাইয়ে মানুষ বড় স্বপ্ন দেখেছিল। শুধু সরকার পরিবর্তন কারও উদ্দেশ্য ছিল না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া জুলাই সফল হবে না।
তিনি আরো বলেন, অর্থনীতিকে ফ্যাসিবাদের আমলের ধারাবাহিকতায় আবারো কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে চৌধুরী মোহাম্মদ ইফতেশাম বলেন, ‘আমরা এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। আমাদের দেশমাতৃকার জন্য দায়িত্ব রয়েছে। জুলাই আমাদের দেশের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।’
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এনসিপি ফ্রান্স শাখার সদস্য ডা: মাজহারুল তালুকদার, মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, ইমাদ উদ্দিন, সাকিব হোসেন ইবন, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, অ্যাক্টিভিস্ট খালেদ মাহমুদ, সাকিব সিদ্দিকী, অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াদুদ তানভীর, আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ আফ্রিদ ও ইকরামুল কবির সালমানসহ আরো অনেকে।


