ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
ঈশ্বরদীতে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়া সাবেক ছাত্রদল নেতাকে ডিবি হেফাজতে নিয়ে ছেড়ে দেয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানায়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভ চলাকালে ঈশ্বরদী থানায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত কমিশনার খোন্দকার শামিম হোসেন।
জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে বাপ্পীর লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। রাত ২টার দিকে তাঁকে ও আরো চারজনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে কোনো মামলা না থাকায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাথা ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে লাইসেন্স করা শটগান হাতে শহরে বের হন বাপ্পী। তাঁর সাথে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথাসহ কয়েকজন ছিলেন। তাঁরা শহরের রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে বাপ্পী আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় তাঁর সহযোগীরা পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শহরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাপ্পী অস্ত্র হাতে ঈশ্বরদী থানায় প্রবেশ করলে থানার সামনেও উত্তেজনা দেখা দেয়।
খবর পেয়ে মেহেদী হাসান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা থানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। তাঁরা বাপ্পী ও সুলভ মালিথাকে গ্রেফতারের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন ও সুলভ মালিথার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।
থানার সামনে অবস্থান নেয়া মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে বাপ্পী পুরো শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রতিপক্ষের প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে হত্যার হুমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বাপ্পী ও সুলভ মালিথার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে বাপ্পীকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জানতে পেরেছি, ডিবি মুচলেকা নিয়ে তাঁকে সহযোগীদেরসহ ছেড়ে দিয়েছে।’
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বাপ্পী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দলীয় গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে সেই বিরোধ আরো তীব্র হয়েছে।
তবে বাপ্পীর পক্ষের দাবি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানাতেই তিনি মাথায় কাফনের কাপড় জড়িয়ে প্রকাশ্যে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে থানার সামনে অবস্থান করেছিলেন। কাউকে ভয় দেখানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার বলেন, ‘জোবায়ের হোসেন বাপ্পীর কাছে থাকা অস্ত্রটি তাঁর লাইসেন্স করা। তবে তিনি আইন ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে শহরে মহড়া দিয়েছেন। এতে জনসাধারণের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ মো: রাশিদুল ইসলাম বলেন, মামলা না থাকায় মুচলেকা নিয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’



