পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) বক্তব্য দাবি করে জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ফটো কার্ড ভাইরাল হয়েছে। ‘চ্যানেল এ আই’ নামক পেজ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৫১ মিনিটে প্রকাশিত এই ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল- ‘জামায়াতের আমিরের আইডি হ্যাক হয়নি : ডিবি’। মূলত দু’টি স্যাটায়ার ফেসবুক পেজ থেকে এই উক্তি ছড়িয়ে পড়ে।
তাতে বলা হচ্ছে ‘পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আইডি হ্যাক করা হয়নি’ তিনি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেই নারীদের নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছেন। তবে ফ্যাক্ট চেকে এটি মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
অন্য দিকে ‘গোজব ভিশন’ নামক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এই ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল- ‘জামাতের আমিরের আইডি হ্যাক হয়নি, তার ফোন থেকেই পোস্ট করা হয় : ডিবি’। এই পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে ‘আইপি এড্রেস চেক করে এমন তথ্য উঠে এসেছে : ডিবি’।
তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান ’ফ্যাক্টওয়াচ’ বলছে ফটোকার্ডসহ এই তথ্য ভাইরাল হওয়ার পর তারা তার অনুসন্ধান শুরু করেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই দাবিটি ভুল। মূলত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এখনো তার তদন্ত করছে। তাদের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই হ্যাকিংয়ের অভিযোগ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে। মূলত কিছু স্যাটায়ার পেজ থেকে এটি প্রথমে পোস্ট করা হয় কিন্তু অনেকেই বিষয়টিকে সত্য বলে মনে করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডিবি পুলিশ আমিরে জামায়াতের আইডি ‘হ্যাকিং হয়েছে’ অথবা ‘হ্যাকিং হয়নি’ তার সম্পর্ক নিশ্চিত হতে পারেনি এবং এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য জনসমক্ষে জানাননি।
এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে জানা যাচ্ছে, ডা: শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়টি ডিবি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জয়েন্ট কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ। রোববার ১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ডা: শফিকুর রহমানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে ডিবি। এখন দেখা হচ্ছে এটি সত্যিই হ্যাক হয়েছে কি না। যদি হ্যাক হয়ে থাকে তাহলে কারা এবং কিভাবে হ্যাক করেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যটি প্রকাশিত হয়েছে কালের কণ্ঠ, এখন টিভি, দেশ রূপান্তর, প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ডিবির পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কিংবা হয়নি- এমন কোনো চূড়ান্ত মতামত জানানো হয়নি। বরং বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। অথচ ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডে বিপরীত দাবি করা হয়েছে। মূলত স্যাটায়ার হিসেবে এই পেজ (চ্যানেল এ আই, গজব ভিশন) থেকে এই ফটোকার্ড তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে অনেকে এই ফটোকার্ড নিজেদের প্রোফাইল এবং পেজ থেকে শেয়ার করছেন। তাদের পোস্টের ক্যাপশন থেকে মনে হচ্ছে, তারা এই কার্ডের বক্তব্য সত্য ধরেই পোস্ট করছেন।
যেমন- ‘সালাহউদ্দিন আহমেদ সমর্থকগোষ্ঠী’ নামক প্রোফাইল থেকে এই কার্ড পোস্ট করে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘মিথ্যা বলে ডিবির কাছে কট জামাত আমীর শফিক’। এই পোস্টের রিয়েকশন সংখ্যা যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, ২৩৫ জন এখানে ‘লাইক’ দিয়েছেন,বিপরীতে ৫ জন ‘হাহা’ দিয়েছেন।
‘তারেক রহমান দেশ নায়ক’ নামক গ্রুপে জনৈক হুমায়ূন কবিরের পোস্টে দেখা যাচ্ছে , মোট ৫২৬ রিয়েকশনের মধ্যে ৪৭৪টি ‘লাইক’ রিঅ্যাক্ট করছেন।
শাহবাগ থানা বিএনপি নামক এই পেজ থেকে এই কার্ড পোস্ট করে ক্যাপশনে বলা হয়েছে- ‘হ্যাক হয়নি জামাতের আমির শফিকের আইডি। নিজেই দিয়েছেন পোস্ট’ ।
এসব পোস্টের কমেন্ট সেকশনেও দেখা যাচ্ছে, ব্যবহারকারীরা ফটোকার্ডের বক্তব্যকে সত্য ধরে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এসব পোস্টকে স্যাটায়ার হিসেবে চিহ্নিত করছে।



