রাশিয়া-চীনের পারমাণবিক নীতির সমালোচনায় ন্যাটো

Printed Edition

রয়টার্স

রাশিয়া ও চীনের পারমাণবিক অস্ত্র নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে ন্যাটো। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জোটটি আগামী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ দু’টিকে বৃহত্তর স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশ ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে এই চুক্তি পর্যালোচনার সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ন্যাটোর নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে রাশিয়া অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলো লঙ্ঘন করেছে এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে পারমাণবিক হুমকি দিচ্ছে। অন্য দিকে চীন কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই দ্রুত তাদের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের বিস্তার ও বৈচিত্র্য ঘটিয়ে চলেছে। ন্যাটোর সহকারী মহাসচিব বরিস রুজ রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার ওরেশনিক মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের উদাহরণ টেনে একে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন যে রাশিয়া বর্তমানে সব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে এবং ১৯৪৫ সালের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্য দিকে রাশিয়া দাবি করেছে যে নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তারা একটি দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তি হিসেবে বজায় থাকবে। ভøাদিমির পুতিনের সরকার ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সমালোচনা করে একে অত্যন্ত অস্থিতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে রুজ ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে আত্মরক্ষামূলক এবং স্বচ্ছ বলে সমর্থন করেছেন। চীন তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বৃদ্ধির বিষয়ে পশ্চিমা সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পর্যায়ে পারমাণবিক শক্তি বজায় রাখে এবং কখনোই কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস এর হিসাব অনুযায়ী রাশিয়ার কাছে বর্তমানে প্রায় চার হাজার ৪০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিন হাজার ৭০০টি চীনের কাছে ৬২০টি ফ্রান্সের কাছে ২৯০টি এবং ব্রিটেনের কাছে ২২৫টি ওয়ারহেড রয়েছে। এ ছাড়া ভারত পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী এবং ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও তাদের কাছে বড় অস্ত্রাগার রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতার কারণে অসংখ্য মানুষের লাশ উদ্ধার এবং বন্দি করার মতো ঘটনা নিয়মিত সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে।