এপস্টেইনের নতুন নথিতে ইলন মাস্ক ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম

Printed Edition

বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত নারী নিপীড়নকারী ও শিশু পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের সাথে সংশ্লিষ্ট নতুন নথিতে এবার উঠে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক এবং যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুুর নাম। মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তৃতীয় দফায় এসব নথি প্রকাশ করেছেন। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপে ইলন মাস্ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এক নথিতে লেখা ছিল- “স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ইলন মাস্ক ৬ ডিসেম্বর দ্বীপে আসবেন (এটা ঠিক আছে তো?)”।

অন্য একটি নথিতে দেখা গেছে, ২০০০ সালের ১২ মে নিউজার্সি থেকে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রী তালিকায় প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম রয়েছে। একই ফ্লাইটে ছিলেন এপস্টেইন ও তার সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল, যিনি ২০২১ সালে যৌনদাসী হিসেবে মেয়েশিশুদের পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইলন মাস্ক ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। প্রিন্স অ্যান্ড্রুু আগেও বলেছেন, কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা নেই।

নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফোনে বার্তালাপের তালিকা, ফ্লাইটের যাত্রী তালিকা, আর্থিক লেনদেনের খতিয়ান এবং এপস্টেইনের দৈনিক সূচি। নতুন করে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন অনলাইনভিত্তিক উদ্যোক্তা পিটার থিয়েল এবং সাবেক ট্রাম্প উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। এক নথিতে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সাথেসকালের নাশতার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ আছে। ২০২২ সালে গেটস বিবিসিকে বলেছিলেন, এপস্টেইনের সাথে দেখা করাটা ছিল তার ‘ভুল’।

তবে নথিতে যাদের নাম আছে, তারা এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ডেমোক্র্যাট মুখপাত্র সারা গুয়েরেরো বলেন, “বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এপস্টেইনের বন্ধু ছিলেন, এটা জনগণের জানা উচিত। প্রতিটি নথি নতুন তথ্য উন্মোচন করছে, তাই আরো নথি প্রকাশ জরুরি।” অন্য দিকে রিপাবলিকান সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষতিগ্রস্তদের চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই পুরো নথি প্রকাশ করা হবে।

জেফরি এপস্টেইন শিশু-কিশোরীদের পাচার ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কারাবন্দী ছিলেন। ২০১৯ সালে বিচার চলাকালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এই নথিগুলো নতুন করে আলোচনায় এনেছে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে এপস্টেইনের সম্পর্ক এবং যৌন নিপীড়নের মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।