‘পারলে এটি বাতিল করে দেখান’

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কানাডা থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের পর যে ম্যাচে তারা শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেছিল বেলজিয়াম নিজেদের আর সংযত রাখতে পারেনি। ম্যাচের আগে একটি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘটনা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার রেশ ধরেই বেলজিয়াম ইউএস সকার (যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সংস্থা), ফিফা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ বা ‘ট্রল’ করে।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর, বেলজিয়াম ফুটবলের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে খেলোয়াড়দের উদযাপনের একটি ছবিসহ পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে ছিল মাত্র দু’টি শব্দ : ‘ওভারটার্ন দিস’ (এটি বাতিল করে দেখান)।

শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে যারা বিশ্বকাপের ঘটনাপ্রবাহের ওপর সামান্যতমও নজর রেখেছিলেন, তাদের কাছে এই বার্তার অর্থ ছিল স্পষ্ট। পোস্টটি ছিল ফিফার সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতি একটি খোঁচা। যে সিদ্ধান্তটি সম্ভবত ট্রাম্পের চাপে নেয়া হয়েছিল এবং যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

বালোগুনের বিতর্কিত লাল কার্ড বাতিলের ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের শীর্ষ গোলদাতা বালোগুনকে গত বুধবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ‘রাউন্ড অফ ৩২’-এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, লাল কার্ড পাওয়ার অর্থ হলো পরের ম্যাচের জন্য তিনি নিষিদ্ধ থাকবেন। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, সেই লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি ছিল অন্যায়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলার সময় বল দখলের চেষ্টায় বালোগুন ভুলবশত প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গোঁড়ালিতে পা দিয়ে ফেলেছিলেন। মাঠে রেফারি তাকে ফাউলের জন্য কোনো শাস্তি দেননি। এ ছাড়া প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো ইচ্ছাও তার ছিল না; বল দখলের লড়াইয়ের সময় দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ওই সংঘর্ষটি ঘটেছিল।

কিন্তু ম্যাচ কর্মকর্তারা ‘ভিডিও অ্যাসিস্টেড রিভিউ’ (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তা নেন এবং মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সেটিকে লাল কার্ডে উন্নীত করেন। এর ফলে বালোগুনকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং ফিফার নিয়ম অনুযায়ী গতকালের ম্যাচের জন্য তার নিষিদ্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। রোববার ফিফা এক চমকপ্রদ ঘোষণা দেয় যে, ব্যালোগুনের পাওয়া লাল কার্ডটি বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে খেলার অনুমতি দেয়া হবে।

এ সিদ্ধান্তটি ছিল ফিফার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির পরিপন্থী। আর এ সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো, যখন বেলজিয়াম ধরে নিয়েছিল যে বালোগুন খেলবেন না এবং সেই অনুযায়ীই তারা ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়েছিল। বেলজিয়াম এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত পরশু সেই বিষয়টি স্বীকার করেন, যা আগেই প্রকাশিত হয়েছিল: তিনি লাল কার্ডের বিষয়ে আলোচনা করতে এবং সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে ফিফাকে ফোন করেছিলেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন সিদ্ধান্তটি অন্যায্য ছিল। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও ট্রাম্পের ফোন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, তবে দাবি করেন যে সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের কোনো প্রভাব ছাড়াই নেয়া হয়েছিল।

বেলজিয়াম অবশ্য সেই ব্যাখ্যা মেনে নেয়নি। ম্যাচের চতুর্থ গোলটি করার পর খেলোয়াড়রা এমন এক ভঙ্গিতে নাচলেন, যা ছিল হুবহু ট্রাম্পের নির্বাচনী জনসভায় করা সেই পরিচিত নাচের মতো। ৯০ মিনিটে করা সেই গোল ও নাচ বেলজিয়ামের এমন এক উদযাপনের সূচনা করল, যা শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে। শেষ ষোলোতে বালোগুন খেলার অনুমতি পেলেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হাসিটা কিন্তু বেলজিয়ামেরই ছিল।