টেন্ডার হলেও ২ বছরে শুরু হয়নি সড়ক সংস্কার

Printed Edition
লোহাগাড়ার ঠাকুরদীঘি রাস্তার বেহাল দশা  : নয়া দিগন্ত
লোহাগাড়ার ঠাকুরদীঘি রাস্তার বেহাল দশা : নয়া দিগন্ত

মোছাদ্দেক হোসাইন লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি থেকে জঙ্গল পদুয়া প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের কোথাও নেই পিচ। এমন বেহাল দশা প্রায় এক যুগ ধরে। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। এ অবস্থায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও দুই বছরে সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী বলছেন, সব নিয়ম মেনে সড়কটির টেন্ডার হয়েছিল। এস আর ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তারা ঈদের পর কাজ ধরার কথা জানালেও তা করেনি উনারা।

সাম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, ঠাকুরদীঘি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ স্থানে পিচ উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। সড়কের ওপরে পাথরের খোয়া থাকায় উল্টে পড়ে মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানের মতো ছোট গাড়ি। আশপাশে রয়েছে ছয়টির বেশি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়দের অভিযোগ বালু, ইট ও গাছ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ঠিকাদারকে লাখ টাকা দিয়ে বর্ষা শুরুর আগে কাজ না করার সুপারিশ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ১৭ বছর ধরে আমরা কষ্ট পাচ্ছি। এখানে অনেক বালু, ইট, গাছ ব্যবসায়ী আছে, উনারা বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে সড়কের কাজ বন্ধ রেখেছে। স্থানীয় এক দোকানী বলেন, সড়কটির জন্য স্থানীয় ৭০০ মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলায় স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেও দুই বছরেও হয়নি।

জঙ্গল পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, অনেক দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা আসে, অনেক সময় ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনার শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। তার ওপর ধুলোবালির কারণে অসুস্থও হয়ে পড়ে অনেকে। সড়ক আর কিছুটা ভাঙলেই বিদ্যালয়ের দেয়াল ভেঙে পড়বে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমান উল্লাহ বলেন, গত ১৭ বছর এই সড়কটা হচ্ছে- হবে বলে সময় পার হয়েছে কিন্তু হয়নি। দার কফিল উদ্দিন জানান, বৈশ্বিক অবস্থা ভালো না থাকায় কাজ শুরু করতে পারিনি। এলজিইডি প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, সময় মতো কাজটি না কারার কারণে সেই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তির আওতায় আসবে।