গেল বছর ব্যর্থতা দিয়ে শুরু হয়েছিল ঢালিউডের, হতাশায় হয়েছে শেষ। ২০২৫ সালেও শুরুতে সিন্দাবাদের ভূতের মতো কাঁধে চেপে বসেছিল ব্যর্থতা। মাঝে দুই ঈদ ‘সফল ওঝা’র ভূমিকা পালন করলেও বছরের বাকি সময়টা কেটেছে চরম শ্বাসকষ্টে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আমদানিকৃত একটিসহ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে মোট ৪৭টি ছবি। যার মধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকটি বাদে বাকি সবই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
বছরের শুরুটা ছিল হাহাকারের। জানুয়ারিতে ‘মধ্যবিত্ত’, ‘মেকআপ’, ‘কিশোর গ্যাং’ ও ‘রিকশা গার্ল’ সিনেমাগুলো মুক্তি পেলেও লাভের গুড় তো দূরের কথা, বিদ্যুৎ বিলও ওঠেনি ছবিগুলো থেকে। ফেব্রুয়ারিতেও লোকসানের আগুন জ্বলেছে ঢালিউডে। এ মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জ্বলে জ্বলে তারা’, ‘ময়না’ ও ‘দায়মুক্তি’ কোনোটিই জ্বলে উঠতে পারেনি। এমনকি বিদেশে পুরস্কার ও প্রশংসা পেলেও দেশের সিনেমা হলে দর্শক মেলেনি ‘বলী’র ভাগ্যে।
তবে ঈদের মৌসুমে চিত্র কিছুটা পাল্টেছিল। রোজার ঈদে হাফ ডজন সিনেমার ভিড়ে সাফল্যের বল কেবল শাকিব খানের কোর্টে ছিল না বরং আফরান নিশো ও সিয়াম আহমেদও সফলতার দেখা পেয়েছেন। সিয়ামের ‘জংলি’ যেমন তার ক্যারিয়ারের ভিত মজবুত করেছে, তেমনি শিশুশিল্পী রৌদ্রময়ী কুড়িয়েছে দর্শকের প্রশংসা। ‘দাগী’র গল্পও দাগ কেটেছে দর্শক মনে। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল শাকিব খানের ‘বরবাদ’। এটি ঢালিউডের প্রচলিত ধারণা পাল্টে দিয়ে ‘ইন্ডাস্ট্রি হিট’ ছবির তকমা পায়। যদিও একই সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অন্তরাত্মা’ ও ‘চক্কর’ ব্যবসায়িকভাবে লোকসানের মুখে পড়ে। কোরবানি ঈদেও লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। শাকিব খানের ‘তাণ্ডব’ পাইরেসির কবলে পড়েও প্রযোজকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। অন্য দিকে নব্বই দশকের নস্টালজিয়া নিয়ে আসা তানিম নূরের ‘উৎসব’ ছিল এ বছরের অন্যতম সারপ্রাইজ। দীর্ঘ দিন পর মধ্যবিত্ত পরিবারকে হলমুখী করতে পেরেছিল এই ছবি। তবে শরিফুল রাজের ‘ইনসাফ’, ইমনের ‘নীলচক্র’ কিংবা আজমেরী হক বাঁধনের ‘এশা মার্ডার’ নির্মাণে সেরা হয়েও আয়ের দিক থেকে ছিল পিছিয়ে। পূজা চেরির ‘টগর’ পরিণত হয়েছিল ডিজাস্টারে। দুই ঈদের এই সাফল্যকে ছাপিয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাকি ১০ মাসের খরা। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢালিউড যেন মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতেই পারেনি। মেহজাবীন চৌধুরীর ‘সাবা’ অস্কারের জন্য মনোনীত ‘বাড়ির নাম শাহানা’ কিংবা যৌথ প্রযোজনার ‘ফেরেশতে’ কোনোটিই প্রেক্ষাগৃহ ভরাতে পারেনি। অক্টোবর-নভেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘বেহুলা দরদী’ কিংবা ‘দেলুপি’ সিনেমাগুলো মান ও নির্মাণের প্রশংসা পেলেও ব্যবসায়িক বিচারে ছিল রুগ্ণ। বছর শেষে শাকিব খানের ‘সোলজার’ মুক্তি না পাওয়ায় ডিসেম্বরেও হলগুলো ছিল দর্শকশূন্য।
আমদানি করা ছবির ক্ষেত্রেও ছিল বড় ব্যর্থতা। নেপালি সিনেমা ‘মিসিং’ নিয়ে দর্শকের কোনো আগ্রহই ছিল না। প্রদর্শক সমিতির মতে, ২০২৫ সালে ব্যবসায় যাকে বলে তা করেছে কেবল ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’, ‘উৎসব’, ‘দাগী’ ও ‘জংলি’। বাকি ৪২টি ছবিই লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফলে বছর শেষে ঢালিউডের সালতামামিতে দুই ঈদের ক্ষণস্থায়ী উৎসবের চেয়ে বাকি মাসগুলোর দীর্ঘশ্বাসই বেশি প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।



