মালয়েশিয়ার ক্যাম্পে ৫ বছরে বাংলাদেশীসহ ৪৬৫ বন্দীর মৃত্যু

Printed Edition
মালয়েশিয়ার একটি আটক কেন্দ্রে ধাতব জালের ভেতর বন্দী অবৈধ অভিবাসীরা : নয়া দিগন্ত
মালয়েশিয়ার একটি আটক কেন্দ্রে ধাতব জালের ভেতর বন্দী অবৈধ অভিবাসীরা : নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন ডিটেনশন ক্যাম্পে গত পাঁচ বছরে (২০২১ থেকে ২০২৫ সাল) মোট ৪৬৫ জন বন্দী মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল দেশটির সংসদে এ তথ্য তুলে ধরেন।

সংসদে দেয়া এক লিখিত বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আলোচিত পাঁচ বছরে দেশটির ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে মোট তিন লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৬ জন অভিবাসীকে বন্দী রাখা হয়েছিল। সেই হিসাবে মোট বন্দীর বিপরীতে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া ১২ জন শিশুও রয়েছে, যাদের মধ্যে আটজন ছেলে ও চারজন মেয়ে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশী রয়েছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সবচেয়ে বেশি ২২২ জন মারা গেছেন ফিলিপাইনের নাগরিক। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (১০৯ জন) ও মিয়ানমারের (৬১ জন) নাগরিক। বাকি ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৭৩ জন মৃত বন্দীর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, যুক্তরাজ্য ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দীদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেপসিস ও সেপটিক শক, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, পরিপাকতন্ত্র ও যকৃতের সমস্যা এবং এইচআইভি/এইডস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো সংক্রামক ব্যাধির কথা উল্লেখ করেছেন।

ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাইফুদ্দিন নাসুশন বলেন, অভিবাসন বিভাগ প্রশাসনিক নির্দেশনা ও ডিপো ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে বন্দীদের প্রবেশের সময় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিয়মিত শারীরিক নিরীক্ষা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধি ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত জরুরি রোগাক্রান্ত বন্দীদের আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনে সরাসরি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিপো কমান্ডারের অনুমতিসাপেক্ষে বন্দীদের ফোন, চিঠি বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।