হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার সাহস নেই কোনো শক্তির : ইরান

Printed Edition

তাসনিম নিউজ এজেন্সি

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ বাহিদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো বহিরাগত শক্তিরই লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার সাহস নেই। তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহ কার্যত ইসরাইলি শাসনব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে। শনিবার এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাহিদি বলেন, হিজবুল্লাহ জায়নিস্ট শাসনের সেনাবাহিনীকে কার্যত অক্ষম করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, যদিও লেবাননের আকাশসীমা জায়নিস্ট শাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষ হত্যা করছে, তবুও ইসরাইল স্থলযুদ্ধে প্রবেশ করার সাহস পাচ্ছে না। ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইল জানে যে স্থলযুদ্ধে নামলে সেটি হিজবুল্লাহর পক্ষেই যাবে। কারণ স্থলভাগে জায়নিস্ট শাসন ইতোমধ্যেই চূর্ণ হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাহিদি জোর দিয়ে বলেন, তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার সাহস পায় না। তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি ছাড়া প্রতিরোধ আন্দোলনের দর্শন অর্থহীন। তার ভাষায়, প্রতিরোধের হৃদয় হচ্ছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা। ইরানি এই জেনারেল বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যু ইসলামী বিপ্লবের অন্যতম প্রধান আদর্শ ছিল এবং এখনো রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিই বিপ্লবের মহান আন্দোলনকে একটি উজ্জ্বল ও গৌরবময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেয়ার পূর্বশর্ত।

লাটিনি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রায় সম্পন্ন

তবে রয়টার্স জানায়, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, দেশটির লাটিনি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রায় সম্পন্ন। ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই অন্যতম এ প্রধান দাবি পূরণ করার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ২০২৪ এর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই প্রতিবেশী দেশ। এর মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা লড়াইয়ের অবসান হয়। কিন্তু এ যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত, লাটিনি নদীর দক্ষিণে ইসরাইলের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলটিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও সালামের নেতৃত্বাধীন লেবাননি কর্তৃপক্ষ ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত লেবাননিজ সেনাবাহিনীকে এই বছরের মধ্যে সব অস্ত্রশস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব দেয়।