যশোরে এক বছরে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ

সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সংক্রমণ বেশি, উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

এম আইউব, যশোর অফিস
Printed Edition

যশোরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত এক বছরে জেলায় নতুন করে ৪৯ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের থেকে প্রায় দ্বিগুণ। চিকিৎসকদের মতে, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি এখানে তুলনামূলক বেশি এবং পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার ও ‘কে পপুলেশন সেন্টার’-এ পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এতে ৪৯ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ ও আটজন নারী। পরিচয়ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন প্রবাসী এবং ২০ জন সমকামী রয়েছেন। আক্রান্তদের বড় অংশ- ৩২ জন যশোর শহর ও সদর উপজেলার বাসিন্দা।

হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর সুদেব কুমার জানান, বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে খুলনা বিভাগের ৯ জেলার মোট ২৪৮ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, গত এক বছরে শনাক্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা নজরদারি ও সচেতনতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

চিকিৎসকদের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে যশোরে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৫ জন। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত ১২ জন প্রবাসীর মধ্যে ৯ জন পুরুষ ভারত ও মালয়েশিয়া ফেরত এবং তিনজন নারী ভারত ও সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। সীমান্ত অতিক্রম, ভাসমান ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংস্পর্শ, নিরাপদ আচরণে অনীহা, এসব কারণে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেছেন। এ প্রেক্ষাপটে যশোরসহ খুলনা বিভাগকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, ছাত্রাবাস ও আবাসিক মেসে বসবাস, অনিয়ন্ত্রিত আচরণ এবং পারিবারিক নজরদারির অভাব তরুণদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এইচআইভি শনাক্তকরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত বলেন, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি জানান, হাসপাতালে আক্রান্তদের গোপনীয়তা ও সম্মান বজায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।