ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে ভালুকায় সংঘর্ষ, ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Printed Edition

ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের ভালুকায় ঝুট (শিল্পবর্জ্য) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএনপির এক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীসহ ৩৭ জনকে আসামি করে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জামিরদিয়া এলাকার একটি ফিড মিলের ঝুট ব্যবসার ওয়ার্ক অর্ডার ছিল যুবদলকর্মী তোফায়েল আহাম্মেদ রানার নামে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রানা বিএনপির স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্য দিকে রানার বাবা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খোকা মিয়া দলীয় প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহম্মদ বাচ্চুর সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনের পর প্রভাব খাটিয়ে রানার নামে থাকা ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করে তা নিজের নামে নেন খোকা মিয়া।

এ নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে। গত ১২ এপ্রিল ফিড মিলের সামনে বাবা-ছেলের বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এতে খোকা মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হন।

পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল খোকা মিয়া বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার ছেলে তোফায়েল আহাম্মেদ রানাকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ মোট ৩৭ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী রয়েছেন।

একই ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো: হারুন বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় তোফায়েল আহাম্মেদ রানার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করছি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর থেকেই আমার ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।’ অন্য দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহম্মদ বাচ্চু বলেন, ‘এ ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে তার প্রমাণ দিতে হবে। আমি বা আমার পরিবারের কেউ এ ব্যবসার সাথে জড়িত নই।’

ভালুকা মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, বাবা-ছেলের বিরোধ থেকে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছে। একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ এবং অপরটি অস্ত্র আইনে পুলিশের করা মামলা। এলাকায় আধিপত্য ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েই মূলত এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।